ঢাকাসোমবার , ১৬ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে সহায়ক অধ্যাদেশগুলোকে দ্রুত আইনে রূপান্তরের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ১৬, ২০২৬ ২:০৭ অপরাহ্ণ । ১৮ জন

গত এক বছরে দেশে ব্যাপক পরিমানে তামাক চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যানুসার ২০২৩ সালে তামাক চাষ হয়েছিল ৯৩,০০০ একর জমিতে, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার একর। অর্থাৎ গত এক বছরে দেশে ৪৯০০০ একর জমিতে তামাক চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে! এত ব্যাপক এলাকা জুড়ে তামাক চাষ সম্প্রসারিত হওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা হমকিতে। অনিয়ন্ত্রিত তামাক উৎপাদন একদিকে খাদ্য সংকট তৈরী করছে অপরদিকে বাড়াচ্ছে ব্যবহার। খাদ্য সংকট থেকে উত্তোরণ এবং ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকার “ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫”এবং “ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬” এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ প্রণয়ণ করেছে। কিন্ত আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি এসকল আইনের বিরোধিতা করে একটি সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠী বিভ্রান্তকর প্রচার চালাচ্ছে। কোন বিশেষ গোষ্ঠীর অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ তথা জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে সহায়ক অধ্যাদেশগুলো দ্রুত আইনে রুপান্তরিত করার আহবান জানাচ্ছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট।

রোববার (১৬ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রেস-বিবৃতিতে এই আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট।

বিবৃতিতে বলা হয়, মাটি, পরিবেশ ও মানব-স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর তামাক কে অর্থকরী ফসল হিসেবে উল্লেখ করা হলেও এটি মূলত কাদের জন্য অর্থকরী। তামাক চাষ করে কৃষক যদি লাভবান হতো তাহলে তামাক চাষ প্রবণ এলাকা রংপুর দেশের ধনী এলাকা হিসেবে পরিচিত হওয়ার কথা ছিলো। কিন্ত রংপুরের পরিচিতি মঙ্গাপ্রবণ এলাকা হিসেবে। তামাক উৎপাদন করে লাভবান যদি কেউ হয়ে থাকে সেটি শুধুমাত্র তামাক কোম্পানি। সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে তামাকজনিত কারণে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তামাক চাষের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে জমি, হুমকিতে পড়ছে খাদ্য নিরাপত্তা। ভূমি ও কৃষি জমি সুরক্ষায় সরকার “ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬” প্রণয়ন করেছে। এই অধ্যাদেশ এর ৭(৫) ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, তিন বা ততোধিক ফসলী কৃষিভূমিতে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নকারী তামাক চাষ করা যাইবেনা এবং এক ও দুই ফসলী কৃষি ভূমিতেও পর্যায়ক্রমে তামাক চাষ সীমিত করতে হবে। এ ধরণের পদক্ষেপ জনস্বাস্থ্য ও কৃষি ভূমি রক্ষায় সহায়ক।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্বের উন্নত দেশগুলো তামাক চাষ বন্ধ করায় কোম্পানিগুলো আমাদের দেশের ভূমিগুলো ক্ষতিকর তামাক উৎপাদনে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। কোন ধরণের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় দেশে তামাক চাষ ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশে তামাক চাষ বৃদ্ধির বড় কারণ এখানে তামাক পাতার দাম অন্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে সস্তা। যেখানে প্রতিবেশী ভারতে প্রতি কেজি তামাক পাতার দাম ২.৪ ডলার, পাকিস্তানে ২.৩৯ ডলার, চীনে ২.৭ ডলার এবং ব্রাজিলে ৩.৫ ডলার, সেখানে বাংলাদেশে এর দাম মাত্র ১.৬৮ ডলার। এছাড়াও তামাক পাতা রপ্তানিতে কোনো শুল্ক না থাকায় বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোও দেশে কারখানা স্থাপন এবং তামাকের ব্যবসা পরিচালনায় উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। এইসকল কারণে বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানিগুলো খাদ্য উৎপাদনযোগ্য জমিতেও তামাক চাষ বাড়িয়ে বিদেশে রপ্তানি করে কোটি কোটি টাকা মুনাফা করছে। বর্তমান অবস্থায় তামাক পাতা রপ্তানিতে পুনরায় শুল্ক আরোপ এবং সহায়ত আইন ও নীতি প্রণয়ন প্রয়োজন।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুসারে, দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রতি বছর ঘরবাড়ি নির্মাণসহ অকৃষি খাতে ১ শতাংশ হারে আবাদী জমি কমছে। সেখানে খাদ্য উৎপাদনের জন্য নির্ধারিত জমিতে তামাক চাষ বৃদ্ধি ভীষণ উদ্বেগের। তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এটি কৃষির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয়ভাবে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট, কোন ধরণের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে, চলমান সংসদ অধিবেশনে “ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫”এবং “ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬” সহ তামাক নিয়ন্ত্রণে সহায়ক অধ্যাদেশগুলোকে দ্রুত আইনে রুপান্তরিত করার আহবান জানিয়েছে তারা।