
বিশ্বে উৎপাদিত মোট খাদ্যের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের পাতে পৌঁছানোর আগেই অপচয়ে নষ্ট হয়। এ সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ঢাকায় ‘জিরো ফুড ওয়েস্ট লাঞ্চ’ আয়োজন করেছে বাংলাদেশে ডেনমার্ক দূতাবাস। এই আয়োজনের লক্ষ্য ছিল খাদ্য অপচয় রোধে তরুণ প্রজন্ম, ইনফ্লুয়েন্সার এবং পরিবর্তন-সৃষ্টিকারীদের অনুপ্রাণিত করা। অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় জাতিসংঘ ঘোষিত “আন্তর্জাতিক খাদ্য ক্ষয় ও অপচয় সচেতনতা দিবস” (২৯ সেপ্টেম্বর) উপলক্ষে।
বাংলাদেশে প্রতিদিন আনুমানিক ১০ হাজার টন খাদ্য নষ্ট হয়। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, চাল, মাছ, ডাল ও আমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের প্রায় ৩৪ শতাংশ বাজারে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে খাদ্যের দাম, সম্পদ অপচয় ও পরিবেশের ওপর।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত, হিজ এক্সেলেন্সি ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার। তিনি বলেন, “খাদ্য অপচয় মানে সম্ভাবনার অপচয়। কৃষকরা আয় হারান, পরিবারগুলোকে বেশি দামে খাদ্য কিনতে হয় এবং পৃথিবীকে দিতে হয় এর মাশুল। আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা দেখাতে চেয়েছি টেকসই সমাধান ও সুস্বাদু খাবার একইসাথে সম্ভব।”
এছাড়া, ডেনমার্ক দূতাবাসের খাদ্য ও কৃষি খাতের সেক্টর কাউন্সেলর মারিয়া স্টেইন কনুডসেন বলেন, “খাদ্য ক্ষয় মানে জীবিকা হারানো এবং খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি। তবে কার্যকর সমাধান আছে। আজকের মতো উদ্যোগ মানুষকে ছোট ছোট পরিবর্তনের দিকে অনুপ্রাণিত করতে পারে, যা একসাথে বড় প্রভাব ফেলবে।”
অনুষ্ঠানে পরিবেশিত বিশেষ মেন্যুতে প্রতিটি উপাদান রান্না থেকে পরিবেশন পর্যন্ত সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে দেখানো হয়, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে স্বাদ ও গুণমান অক্ষুণ্ণ রেখেই খাদ্য অপচয় কমানো সম্ভব।
‘জিরো ফুড ওয়েস্ট লাঞ্চ’ ছিল দূতাবাসের বিস্তৃত ‘এসডিজি ফ্যাসিলিটি’ উদ্যোগের অংশ, যা বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে সহায়তা করে, স্থানীয় কণ্ঠস্বরকে যুক্ত করে এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য নতুন অংশীদারিত্ব তৈরি করে।