
ভারতের উত্তরাখণ্ডে ভয়াবহ মেঘভাঙা বৃষ্টির (ক্লাউডব্রাস্ট) ফলে সৃষ্ট আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে উত্তরকাশীর ধারালী গ্রাম ও হর্ষিল উপত্যকা। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোরে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই পাহাড়ি ঢল গ্রামের ওপর আছড়ে পড়ে।
সেখানে থাকা ক্ষীরগঙ্গা নদীর জলাধার থেকে নেমে আসা এই পানির স্রোতে বিশাল বিশাল পাথর, কাদা ও বোল্ডার ভাসিয়ে নিয়ে আসে। মুহূর্তেই গুঁড়িয়ে যায় বহু বসতবাড়ি, হোটেল ও রেস্তোরাঁ।
ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত ৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১৫০ জন, যার মধ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৯ সদস্য রয়েছেন।
সেনা ক্যাম্পেও আঘাত
হারসিলের সেনাক্যাম্প থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে ধারালী গ্রামে ঘটে এই ক্লাউডব্রাস্টের ঘটনা। প্রবল বৃষ্টির কারণে ক্ষীরগঙ্গার পানি হঠাৎই ফুলে উঠে প্লাবনের সৃষ্টি করে। ঘটনাস্থলের কাছে অবস্থিত সেনা ক্যাম্পেও ঢলের পানি প্রবেশ করে, যার ফলে নিখোঁজ হন ৯ সেনা।
উদ্ধার অভিযান ব্যাহত
ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর থেকেই উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। আজ বুধবারও চলছে ব্যাপক উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধানের কাজ।
কীভাবে ঘটে ক্লাউডব্রাস্ট?
বিশেষজ্ঞরা জানান, ক্লাউডব্রাস্ট হলো হঠাৎ করে সীমিত একটি অঞ্চলে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত। এটি সাধারণত হিমালয় অঞ্চলে ঘটে। এতে অল্প সময়েই নদী-নালায় পানি বেড়ে যায় এবং পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা পানির স্রোতে সৃষ্ট হয় আকস্মিক বন্যা।
এই ধরনের দুর্যোগে পাহাড়ি অঞ্চলের নিচের দিকে থাকা বসতবাড়ি, হোটেল ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় মারাত্মকভাবে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ
ক্ষীরগঙ্গা নদীর ধারে অবস্থিত ধারালী ও আশপাশের গ্রামগুলোতে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, “এত তীব্র বন্যা তারা আগে কখনো দেখেননি। মুহূর্তেই সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।”
প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধারকাজে আরও বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং সব নিখোঁজের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।