ঢাকাশুক্রবার , ১৭ এপ্রিল ২০২৬

২০২৬ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০ শিক্ষিত দেশ, ৬ নম্বরে রয়েছে চমক!

বিপ্লব হোসাইন
এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ৮:১১ পূর্বাহ্ণ । ৬ জন

শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়ন, অর্থনৈতিক শক্তি এবং সার্বিক জীবনমান উন্নয়নের অন্যতম প্রধান সূচক। ২০২৬ সালে বৈশ্বিক বিভিন্ন র‌্যাঙ্কিং ও বিশ্লেষণে এমন কিছু দেশ উঠে এসেছে, যেগুলো উচ্চশিক্ষার প্রসার, সাক্ষরতার হার, গবেষণা কার্যক্রম এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার কারণে বিশ্বে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

আজকের দিনে “শিক্ষিত দেশ” বলতে শুধু সাক্ষরতার হার বোঝানো হয় না; বরং উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সক্ষমতা এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার সংস্কৃতিও এর অন্তর্ভুক্ত। এসব ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা দেশগুলোই ২০২৬ সালের বৈশ্বিক তালিকায় স্থান পেয়েছে।

নিচে ২০২৬ সালের শীর্ষ ১০টি শিক্ষিত দেশের বিশদ বিবরণ তুলে ধরা হলো—

১. কানাডা

কানাডা ২০২৬ সালে বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত দেশ হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করেছে। দেশটিতে উচ্চশিক্ষা অর্জনের হার অত্যন্ত বেশি এবং সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান কানাডাকে আন্তর্জাতিকভাবে শিক্ষা ক্ষেত্রে নেতৃত্বে রেখেছে। পাশাপাশি অভিবাসী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত নীতিও দেশটির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

২. আয়ারল্যান্ড

শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দ্রুত অগ্রগতির মাধ্যমে আয়ারল্যান্ড বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনসহ দেশটির উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। তথ্যপ্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে আয়ারল্যান্ড ইউরোপের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

৩. জাপান

শৃঙ্খলা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জাপান বিশ্বে সুপরিচিত। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশটির উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংয়ে নিয়মিতভাবে শীর্ষে থাকে। STEM (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) শিক্ষায় জাপানের গুরুত্ব দেশটির দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

৪. দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়া কঠোর একাডেমিক কাঠামো এবং উচ্চমানের শিক্ষার জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান শিক্ষায় দেশটির শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শীর্ষ ফলাফল অর্জন করে থাকে। সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দেশটির শিক্ষা মানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

৫. যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান দেশটির শিক্ষার মানকে বিশ্বব্যাপী মর্যাদা দিয়েছে। গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকর্ষণে যুক্তরাজ্য এখনও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

৬. লুক্সেমবার্গ

আকারে ছোট হলেও লুক্সেমবার্গ শিক্ষা ক্ষেত্রে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বহুভাষিক শিক্ষাব্যবস্থা, আধুনিক পাঠ্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দেশটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য। সরকারি বিনিয়োগ ও উচ্চমানের শিক্ষা সুবিধার কারণে এটি শীর্ষ দশে স্থান পেয়েছে।

৭. অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়া উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। দেশটি বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি জনপ্রিয় গন্তব্য।

৮. সুইডেন

সুইডেনের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রগতিশীল ও সমান সুযোগভিত্তিক। এখানে সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং বাস্তবমুখী শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। লুন্ড ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠান দেশটির শিক্ষা খ্যাতিকে আন্তর্জাতিকভাবে শক্তিশালী করেছে।

৯. যুক্তরাষ্ট্র

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বনেতা। হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ডসহ শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বব্যাপী শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করে। প্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য দেশটিকে শিক্ষা ক্ষেত্রে শীর্ষ অবস্থানে রেখেছে।

১০. ইসরায়েল

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক শিক্ষার কারণে ইসরায়েল তালিকার দশম স্থানে রয়েছে। গবেষণা ও উন্নয়নে দেশটির ব্যাপক বিনিয়োগ এবং হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এটিকে একটি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত করেছে।

২০২৬ সালের এই তালিকা প্রমাণ করে যে শিক্ষা শুধু সাক্ষরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয়েই একটি দেশ “শিক্ষিত” হিসেবে বিবেচিত হয়। এই দেশগুলো তাদের সুপরিকল্পিত শিক্ষানীতি ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈশ্বিক শিক্ষা মানচিত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে।