ঢাকাবুধবার , ২১ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

২০২৫ সালে ঢাকায় ৪০৯টি সড়ক দুর্ঘটনা, ২১৯ জন নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২১, ২০২৬ ১:১৮ অপরাহ্ণ । ২০৭ জন

রাজধানী ঢাকায় ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এক বছরে মোট ৪০৯টি দুর্ঘটনায় ২১৯ জন নিহত এবং ৫১১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পুরুষ ১৭৬ জন (৮০.৩৬%), নারী ২৫ জন (১১.৪১%) এবং শিশু ১৮ জন (৮.২১%)। দুর্ঘটনার বেশি ভাগই রাত ও সকালে ঘটে, যেখানে পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী এবং বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও যাত্রী সবচেয়ে বেশি হতাহত হয়েছেন। যানজট, বেপরোয়া যান চলাচল, অপ্রতুল সড়ক এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতা রাজধানীর সড়ক নিরাপত্তাকে ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিহতের মধ্যে পথচারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৪৭.০৩%, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ৪৩.৩৭%, এবং বাস, রিকশা, সিএনজি ইত্যাদি যানবাহনের চালক ও আরোহী ৯.৫৮%।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, দুর্ঘটনার সময় ভোরে ১১.২৪%, সকালে ১৮.৩৩%, দুপুরে ৯.৫৩%, বিকেলে ১৩.৪৪%, সন্ধ্যায় ৫.৮৬% এবং রাতে ৪১.৫৬% দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে বাস ২৪.৮৭%, ভারী যানবাহন ৩৫.১৪%, মোটরসাইকেল ২১.৫৩%, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-জীপ ৪.১২%, অটোরিকশা-সিএনজি-লেগুনা ১১.৮২% এবং রিকশা ২.৪৮%।

রাজধানীতে যানজট ও অব্যবস্থাপনার কারণে দুর্ঘটনা ক্রমবর্ধমান। বিশেষ করে রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত মালবাহী ভারী যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। যাত্রাবাড়ি, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড ও বিমানবন্দর সড়কগুলো দুর্ঘটনার হটস্পট।

প্রধান দুর্ঘটনার কারণ:
১. মেয়াদোত্তীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন
২. যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল
৩. অপ্রতুল সড়ক
৪. একই সড়কে বিভিন্ন গতির যানবাহন
৫. ফুটপাত হকারদের দখল
৬. ফুটওভার ব্রিজ যথাস্থানে না থাকা
৭. সড়কে সঠিক নিয়মে সাইন/মার্কিং না থাকা
৮. সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতা
৯. সড়ক ও যানবাহনে চাঁদাবাজি

প্রস্তাবিত সুপারিশসমূহ:
১. রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে আধুনিক বাস সার্ভিস চালু করা
২. মেয়াদোত্তীর্ণ যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন প্রত্যাহার করা
৩. বাসের জন্য আলাদা লেন ব্যবস্থা করা
৪. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বাস সার্ভিস বাধ্যতামূলক করা
৫. অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের উন্নত বিকল্প তৈরি করা
৬. বাস সার্ভিস উন্নত ও বিস্তৃত করা
৭. যথাস্থানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ ও ব্যবহার উপযোগী রাখা
৮. ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা
৯. বিআরটিএ, ডিটিসিএ, ট্রাফিক পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো
১০. হাইড্রোলিক বহুতলবিশিষ্ট পার্কিং স্টেশন নির্মাণ
১১. রেল ক্রসিংতে ওভারপাস/আন্ডারপাস তৈরি
১২. রাজধানীর পাশ দিয়ে বাইপাস রোড নির্মাণ
১৩. সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন করতে প্রচারণা চালানো
১৪. গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করা

রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনা রোধের জন্য এসব পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।