
লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পূর্বাঞ্চলের খুমস শহরের উপকূল থেকে অন্তত ১৫ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
লিবিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি চিকিৎসা ও সহায়তা কেন্দ্র জানিয়েছে, সমুদ্রের ঢেউয়ে ভেসে মরদেহগুলো ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১১৮ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত খুমস শহরের উপকূলে এসে পৌঁছায়। পরে সেগুলো উদ্ধার করে দাফন করা হয়। তবে নিহতদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
জরুরি চিকিৎসা ও সহায়তা কেন্দ্র তাদের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, সুরক্ষামূলক পোশাক পরিহিত চিকিৎসাকর্মীরা প্লাস্টিকের ব্যাগে রাখা মরদেহ বহন করছেন এবং পরবর্তীতে সেগুলো দাফন করা হচ্ছে।
খুমস শাখার এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উদ্ধারকারী দলগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারিত নিয়ম মেনে ১৫টি মরদেহ দাফন করেছে।
২০১১ সালে লিবিয়ায় বিদ্রোহ শুরুর পর দেশটি উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপমুখী অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। সংঘাত, সহিংসতা ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে আসা বিশেষ করে সাব-সাহারা আফ্রিকার হাজারো মানুষ লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
তবে এই যাত্রাপথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মানবপাচারকারী চক্রের সহায়তায় অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও অনিরাপদ নৌকায় সমুদ্রযাত্রার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিবিয়া থেকে ইউরোপের অভিবাসন রুট বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক সমুদ্রপথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে প্রতি বছর বহু অভিবাসী জীবন হারাচ্ছেন।