ঢাকাশুক্রবার , ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

রমজান ঘিরে বাড়ছে মাছ-মাংস ও ইফতার সামগ্রীর দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ ৪:২০ অপরাহ্ণ । ৩৮ জন

শীত মৌসুম শেষের পথে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বাজারে শীতকালীন সবজির দামে স্বস্তি থাকলেও রমজানকে সামনে রেখে মাছ, মাংস ও ইফতার সামগ্রীর দামে বাড়তি চাপ দেখা যাচ্ছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শ্যামনগর, শনির আখড়াসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, কুমড়া, শিম, বরবটি, পেঁপে, মূলা, গাজর, বেগুনসহ প্রায় সব ধরনের শীতকালীন সবজির সরবরাহ ভালো রয়েছে। ফলে এসব সবজির দাম অপরিবর্তিত আছে। বর্তমানে অধিকাংশ সবজি কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যেই বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো সবজির দাম আগের তুলনায় অর্ধেক থেকে দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কমেছে।

অনেক ক্রেতা জানান, কয়েক মাস আগেও যেসব সবজির জন্য দ্বিগুণ দাম দিতে হতো, সেগুলো এখন অনেক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। সবজি ক্রেতা রায়হান বলেন, ‘সবজির বাজার এখন বেশ ভালো। পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি কিনতে আগের মতো চাপ অনুভব করতে হচ্ছে না।’

বিক্রেতারাও বলছেন, কৃষক পর্যায় থেকে সরাসরি বাজারে সবজি আসায় সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে, ফলে দাম স্থিতিশীল থাকছে।

তবে সবজির বাজারে স্বস্তি থাকলেও মাছ ও মাংসের বাজারে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। কয়েক দিন আগে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষ্যে চাহিদা বাড়ার পর থেকেই মাছ-মাংসের দাম কিছুটা বেড়েছে। সামনে রমজান মাস শুরু হওয়ায় এই খাতে দামের চাপ আরও বাড়ছে।

মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, আগের তুলনায় প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রুই, কাতলা, পাঙাশ, তেলাপিয়া থেকে শুরু করে দেশি ছোট মাছের দামও ঊর্ধ্বমুখী। বিক্রেতারা জানান, চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ সেই অনুপাতে না থাকায় দাম বেড়েছে।

মাংসের বাজারেও একই অবস্থা। বর্তমানে গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংসের দাম উঠেছে কেজিপ্রতি ১২০০ টাকা পর্যন্ত। ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ক্রেতারা বলছেন, রোজার আগে এমন দামে মাংস কেনা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে রমজানকে সামনে রেখে ইফতারে ব্যবহৃত পণ্যের দামেও বাড়তি চাপ দেখা যাচ্ছে। ছোলা, ডাল ও খেজুরের পাশাপাশি লেবুর দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। আগে যেখানে ২০ টাকায় এক হালি লেবু পাওয়া যেত, সেখানে এখন তা ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, রমজান শুরু হলে ইফতার সামগ্রীর চাহিদা আরও বাড়বে, ফলে এসব পণ্যের দাম কিছুটা বেশি থাকতে পারে। তবে সবজির ক্ষেত্রে সরবরাহ ভালো থাকায় আপাতত বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন তারা।

শীতের শেষ প্রান্তে সবজির বাজারে স্বস্তি থাকলেও রমজান ঘিরে মাছ, মাংস ও ইফতার সামগ্রীর দামে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। বাজার তদারকি জোরদার না হলে সামনে এই চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।