ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য

যাদের জন্য আখের রস ক্ষতিকর হতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ৪:২৭ অপরাহ্ণ । ৯ জন

গরমের দিনে ক্লান্তি দূর করতে ও তৃষ্ণা মেটাতে আখের রস অনেকেরই পছন্দের পানীয়। রাস্তার পাশের ঠান্ডা আখের রস তাৎক্ষণিকভাবে শরীরকে সতেজ করে তোলে, শক্তি জোগায় এবং স্বাদেও বেশ উপভোগ্য। তবে এই জনপ্রিয় পানীয়টি সবার জন্য সমানভাবে উপকারী নয়। বিশেষ করে কিছু শারীরিক সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য আখের রস হতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ।

আখের রসে প্রাকৃতিক চিনি বা সুগারের পরিমাণ বেশ বেশি থাকে। এক গ্লাস আখের রসে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম পর্যন্ত চিনি থাকতে পারে, যা দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি বিশেষভাবে সতর্কতার বিষয়। তাদের ক্ষেত্রে সামান্য পরিমাণেও এই রস রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত আখের রস পান করা ঠিক নয়।

ফ্যাটি লিভারে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্যও আখের রস ক্ষতিকর হতে পারে। এতে থাকা ফ্রুক্টোজ লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমতে সাহায্য করে, যা সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। যাদের লিভার আগে থেকেই দুর্বল, তাদের জন্য এই পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো।

অনেকেই হজমজনিত সমস্যায় ভোগেন—যেমন পেট ফাঁপা, গ্যাস বা ডায়রিয়া। এ ধরনের সমস্যায় আখের রস কখনও কখনও উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত চিনি অন্ত্রে গাঁজন প্রক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়, ফলে পেটের অস্বস্তি ও ডায়রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই যাদের হজমে সমস্যা রয়েছে, তাদের আখের রস খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন—এমন ব্যক্তিদের জন্যও আখের রস খুব একটা ভালো পছন্দ নয়। একটি গ্লাস আখের রসে প্রায় ১৫০ থেকে ১৮০ ক্যালোরি থাকতে পারে, অথচ এতে তেমন কোনো ফাইবার নেই। ফলে এটি পেট ভরায় না, কিন্তু ক্যালোরি বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত পান করলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি থাকে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বাস্থ্যবিধি। রাস্তার পাশে বিক্রি হওয়া আখের রস অনেক সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হয়। ব্যবহৃত মেশিন, পানি বা বরফ সবসময় পরিষ্কার থাকে না। এতে ই. কোলাইসহ বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে, যা বিশেষ করে দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

তবে এর মানে এই নয় যে আখের রস সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলতে হবে। সুস্থ ব্যক্তি পরিমিত পরিমাণে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি আখের রস পান করতে পারেন। সম্ভব হলে বাসায় তৈরি করে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

সব মিলিয়ে, আখের রস যতই সুস্বাদু ও সতেজকারী হোক না কেন, সবার জন্য এটি সমানভাবে নিরাপদ নয়। নিজের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সচেতনভাবে এই পানীয় গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।