
শীত মৌসুমে প্রচুর সবজি উৎপাদিত হলেও সংরক্ষণের অভাবে কৃষকরা প্রায়ই ক্ষতির মুখে পড়েন। এ সমস্যা সমাধানে কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, “মিনি কোল্ড স্টোরেজ কৃষকের ক্ষতি কমাবে এবং কৃষি অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনবে।”
আজ (২৭ আগস্ট) মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের মেদুলিয়া এলাকায় ফারমারস মিনি কোল্ড স্টোরেজ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। “মিনি কোল্ড স্টোরেজ কেবল ফসল সংরক্ষণ নয়, বরং কৃষকদের হাতে প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে কৃষি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে।”
তিনি জানান, কৃষকরা চাইলে অল্প খরচে ঘরোয়া পর্যায়ে এ ধরনের কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করতে পারবেন। সরকার তাদের কারিগরি সহায়তা দেবে। এ সময় নকল ও ভেজাল বীজের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে কৃষকরা সরাসরি খাল দখল, বিদ্যুৎ সংযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। উপদেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
তিনি আরও জানান, কৃষিজমি সুরক্ষায় আগামী পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যেই কৃষিজমি সুরক্ষা আইন পাস করা হবে। পাশাপাশি নতুন আইনের আওতায় এলজিইডির প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরাও সড়ক বিভাগের মতো তিনগুণ ক্ষতিপূরণ পাবেন।
অনুষ্ঠানে কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ছাইফুল আলমসহ বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে কৃষি মন্ত্রণালয় বাস্তবায়িত “জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সাশ্রয়ী কোল্ড স্টোরেজ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধি প্রকল্প”-এর আওতায় সারাদেশে প্রাথমিকভাবে ১০০টি ফারমারস মিনি কোল্ড স্টোরেজ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একটি ঘরভিত্তিক কোল্ড স্টোরেজে প্রায় ১০ টন পণ্য রাখা যায় এবং খরচ পড়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা, আর কনটেইনার মডেলের খরচ প্রায় ১৫ লাখ টাকা। প্রচলিত কোল্ড স্টোরেজের তুলনায় এ মডেল প্রায় ৭০ শতাংশ সাশ্রয়ী।