
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আশার প্রেক্ষিতে ডলারের দর কিছুটা কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বার্তাসংস্থা Reuters–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১ এপ্রিল) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৮৫ দশমিক ৭৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে এটি ৪ হাজার ৭২৩ দশমিক ২১ ডলারে উঠেছিল, যা গত ২০ মার্চের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৭১৩ দশমিক ৪০ ডলারে পৌঁছেছে।
ডলারের মান শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য স্বর্ণ তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার আশঙ্কায় শেয়ার ও বন্ড বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। তবে স্বর্ণের দামের উর্ধ্বগতি সীমিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্চ মাসে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মুদ্রানীতির কঠোরতা ও ডলারকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচনা করায় স্বর্ণের দাম ১১ শতাংশের বেশি কমেছিল, যা অক্টোবর ২০০৮-এর পর সবচেয়ে বড় মাসিক পতন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশেও স্বর্ণের দামে প্রভাব পড়তে পারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়ে।
এর আগে সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ বাজুস স্বর্ণের দাম ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়েছে। বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট ও সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও সমন্বয় করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও কমলে এবং সুদের হার পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হলে স্বর্ণের বাজারে নতুন গতিশীলতা দেখা দিতে পারে।