ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

বিশ্ববাজারে সোনা–রুপা–তেলের দামে বড় ধস

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ ৩:৪৪ অপরাহ্ণ । ১২৮ জন

বিশ্ববাজারে সোনা, রুপা, তামা ও অপরিশোধিত তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে ফোনালাপের পর বৈশ্বিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়া এবং একই সঙ্গে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিভীতি কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে পণ্যমূল্যে, পাশাপাশি শক্তিশালী হয়েছে মার্কিন ডলার।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রুপার দাম একদিনেই প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। একই দিনে সোনা, অপরিশোধিত তেল ও তামার দাম গড়ে প্রায় দুই শতাংশ করে কমেছে।

এদিন মার্কিন ডলারের সূচক প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ডলার শক্তিশালী হওয়ায় অন্য মুদ্রাধারীদের কাছে ডলারে মূল্যায়িত সোনা ও অন্যান্য পণ্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, যা দরপতনের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইজি ব্রোকারেজের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, চলতি সপ্তাহে মূল্যবান ধাতু ও অন্যান্য পণ্যে চরম অস্থিরতা দেখা গেছে। আজকের দরপতন মূলত সেই অস্থিরতার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া। তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা আবার শুরু হতে পারে—এমন ইঙ্গিত পাওয়ায় বিশেষ করে তেলের বাজার থেকে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিজনিত অতিরিক্ত মূল্য সরে যাচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ফোনালাপের পর যুক্তরাষ্ট্র–চীন বাণিজ্য উত্তেজনাও কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা সোনায় মুনাফা তুলে নেওয়ার দিকে ঝুঁকছেন বলেও মন্তব্য করেন সাইকামোর।

এশীয় বাজারে দিনের শুরুতে ডলার স্থিতিশীল থাকলেও পরে সূচক দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে যায়। সাধারণত শক্তিশালী ডলার পণ্যমূল্যের ওপর নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করে।

গত সপ্তাহে স্পট সোনার দাম রেকর্ড ৫ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৮২ ডলার প্রতি আউন্সে এবং রুপার দাম ১২১ দশমিক ৬৪ ডলারে পৌঁছেছিল। বৃহস্পতিবার সেখান থেকেই বড় ধরনের পতন দেখা যায়। এদিন স্পট মার্কেটে সোনার দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৩৮ দশমিক ৮১ ডলারে। এপ্রিল ডেলিভারির যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসও ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৫৫ দশমিক ৬০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

রুপার বাজারে দরপতন আরও তীব্র ছিল। স্পট রুপার দাম একদিনে ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৭৪ দশমিক ৯৪ ডলারে।

ওসিবিসির কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওং বলেন, প্রায় সব ধরনের সম্পদ শ্রেণিতেই বিনিয়োগকারীদের মনোভাব দুর্বল হয়ে পড়েছে। কম তারল্যের বাজারে একটি খাতে পতন অন্য খাতেও চাপ বাড়াচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে মূল্যবান ধাতু, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও আঞ্চলিক শেয়ারবাজারে।

এদিন অপরিশোধিত তেলের দামও প্রায় দুই শতাংশ কমেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার ওমানে আলোচনায় বসতে সম্মত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন অঞ্চল থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমেছে।

তামার দামে চাপ সৃষ্টি করেছে বৈশ্বিক চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ এবং লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত গুদামগুলোতে মজুত বৃদ্ধির খবর। যদিও এর আগে চীন তামার কৌশলগত মজুত বাড়ানোর পরিকল্পনার কারণে দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।

তবে সব পণ্যের মধ্যে ব্যতিক্রম ছিল সয়াবিন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও সয়াবিন কেনার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তার এই মন্তব্যের পর সয়াবিনের দাম দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে গেছে।

সূত্র: রয়টার্স