ঢাকাশুক্রবার , ২ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিবর্ণ হচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন: গাইবান্ধায় তীব্র শীতে নষ্ট হচ্ছে বীজতলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২, ২০২৬ ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ । ১৩৯ জন

গাইবান্ধার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন নিভৃত পল্লীতে হাড়কাঁপানো শীত ও অব্যাহত ঘন কুয়াশার প্রভাবে বিবর্ণ হয়ে পড়ছে বোরো ধানের বীজতলা। শুরুতে চারাগুলো সবুজ ও সতেজ থাকলেও কয়েকদিনের বৈরী আবহাওয়ায় তা হলদে হয়ে মড়ক ধরার উপক্রম হয়েছে। এতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গাইবান্ধায় ১ লাখ ২৯ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ জমির জন্য ৬ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন কৃষকরা। কিন্তু প্রকৃতির বৈরী আচরণে সেই লক্ষ্যমাত্রা এখন হুমকির মুখে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকা মাঠের পর মাঠ বীজতলা এখন ফ্যাকাসে হলদে হয়ে গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, চারাগুলো বাঁচাতে বাজারে পাওয়া বিভিন্ন ওষুধ ও কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোনো সুফল মিলছে না।

কৃষিভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত এই জেলার অধিকাংশ মানুষের প্রধান জীবিকা ধান চাষ। চরাঞ্চলের কৃষক মিথুন প্রধান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কুয়াশায় বীজতলা শেষ হয়ে যাচ্ছে। চারা বাঁচাতে কত কিছু করছি কিন্তু কাজ হচ্ছে না। এই বিপদের সময় কৃষি বিভাগের কোনো কর্মকর্তাকে আমরা মাঠে পাচ্ছি না। যদি চারা নষ্ট হয়ে যায়, তবে এবার বোরো চাষ করাই অসম্ভব হয়ে পড়বে।”

তবে মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির অভিযোগ থাকলেও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে কৃষকদের বিশেষ কিছু পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক খোরশেদ আলম জানান, কুয়াশা ও তীব্র শীত থেকে চারা রক্ষা করতে কৃষকদের নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে:

রাতে বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা।

সকালবেলা চারার ওপর জমে থাকা শিশির ঝরিয়ে দেওয়া।

বীজতলায় পরিমাণমতো সার ও পানি ধরে রাখা।

তীব্র শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে চারা সংকটের কারণে বোরো ধানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে গাইবান্ধার হাজারো কৃষকের।