হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ, যা অনেক সময় বাবা-মা সাধারণ জ্বর ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু সামান্য অসচেতনতা ও কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এই রোগ শিশুর জন্য মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। সময়মতো টিকা না দেওয়া, সঠিক যত্নের অভাব বা দেরিতে চিকিৎসা নেওয়ার মতো ভুলগুলোই হামকে প্রাণঘাতী করে তুলতে পারে। তাই শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে বাবা-মায়ের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
শিশু বিষয়ক চিকিৎসক আফজাল ফেরদৌস জানান, হামের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের কিছু সাধারণ ভুল বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো সময়মতো টিকা না দেওয়া বা দেরি করা। হামের টিকা (MMR) না নিলে শিশুর শরীরে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
তিনি বলেন, অনেকেই হামের লক্ষণকে হালকাভাবে নেন এবং মনে করেন এটি নিজে নিজেই সেরে যাবে। কিন্তু এই অবহেলার কারণে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এমনকি মস্তিষ্কের সংক্রমণের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই জ্বর, চোখ লাল হওয়া ও শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
চিকিৎসকের মতে, হাম হলে আক্রান্ত শিশুকে আলাদা করে রাখা জরুরি। একই ঘরে থাকা বা অন্য শিশুদের সংস্পর্শে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। পরিচর্যাকারীর জন্যও হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া জ্বরের কারণে অনেক সময় শিশুরা খেতে চায় না। এমন অবস্থায় খাবার ও পানি কমিয়ে দিলে ডিহাইড্রেশন ও অপুষ্টি বাড়তে পারে। তাই শিশুকে পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে।
হাম আক্রান্ত শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এটি চোখের ক্ষতি কমাতে এবং রোগের জটিলতা হ্রাসে সাহায্য করে। একই সঙ্গে শিশুকে বাইরে বা ভিড়ের মধ্যে না নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা, কারণ এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ।
চিকিৎসকেরা আরও জানান, কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, খাওয়া একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক ঘুম বা খিঁচুনি এবং ডায়রিয়া বা পানিশূন্যতা। এসব ক্ষেত্রে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


