ঢাকাশনিবার , ১০ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রাণিস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ১০, ২০২৬ ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ । ১২৬ জন

দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রাণিস্বাস্থ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মাছ, গবাদিপশু ও পোল্ট্রির স্বাস্থ্য সুরক্ষিত না হলে নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন সম্ভব নয়-এমন বাস্তবতায় প্রাণিস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। প্রাণিসম্পদ খাতে টেকসই উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নীতিগত সংস্কার ও যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-তে আয়োজিত অ্যানিম্যাল হেলথ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আহকাব)-এর ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক এক্সপো–২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের এক্সপো আয়োজন করা হয়েছে ‘সুস্থ প্রাণী, সমৃদ্ধ জাতি’ স্লোগানকে সামনে রেখে।

উপদেষ্টা বলেন, উদ্যোক্তারা শুধু বিনিয়োগই করছেন না, বরং প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে প্রাণিস্বাস্থ্যের দিকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। মাছ, গবাদিপশু কিংবা পোল্ট্রি-সব ধরনের প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনের মূল শর্ত হলো সংশ্লিষ্ট প্রাণীর সুস্থতা নিশ্চিত করা।

এ সময় তিনি ওয়ান হেলথ (One Health) ধারণার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশ-এই তিনের সমন্বিত সুস্থতার মাধ্যমেই টেকসই স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা আরও বলেন, শুধু প্রাণী মোটাতাজাকরণ নয়, প্রাণী যে খাদ্য গ্রহণ করছে তা নিরাপদ ও পুষ্টিকর কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। প্রাণিখাদ্য ও মাছের খাদ্যের কাঁচামাল কোথা থেকে আসছে এবং সেগুলোর মান কেমন-এসব বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

তিনি কৃষি খাতের সঙ্গে প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতের সমন্বয় আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভুট্টা ও সয়াবিনসহ প্রাণিখাদ্যের উপাদান আমদানিনির্ভর না হয়ে দেশেই উৎপাদনের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

প্রাণিস্বাস্থ্য ও নিউট্রিশন ইন্ডাস্ট্রিতে উল্লেখযোগ্য অবদান থাকা সত্ত্বেও ওষুধ উৎপাদন ও আমদানিতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে ফরিদা আখতার বলেন, বিদ্যমান আইন দিয়ে প্রাণিস্বাস্থ্য খাতের চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। তিনি বলেন, উদ্যোক্তারা প্রাণিস্বাস্থ্য নিয়ে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণিস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হলে মানব স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকে। তিনি জানান, অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রাণিস্বাস্থ্য রক্ষায় আলাদা ড্রাগ আইন ও অথরিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি খসড়া আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, যা সরকারের মেয়াদে অর্ডিন্যান্স আকারে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আহকাবের সভাপতি সায়েম উল হক। এ সময় সংগঠনের সেক্রেটারি মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, এবারের এক্সপোতে বিশ্বের ১৪টি দেশ অংশগ্রহণ করছে। প্রাণিস্বাস্থ্য ও মৎস্য খাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি বিনিময় এবং বিনিয়োগ সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত এই মেলায় রয়েছে ১২৮টি বিদেশি স্টল ও ৬৫ জন আন্তর্জাতিক প্রদর্শক। পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আধুনিক পণ্য, প্রযুক্তি ও সেবা প্রদর্শন করছে।