
রেলপথে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সর্বসাধারণের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন রুটে কয়েকটি ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক সতর্কতা ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে বড় ধরনের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রত্যেকটি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। তবে রেলওয়ে দাবি করেছে, কিছু দুর্ঘটনায় নাশকতার আলামত পাওয়া গেছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ৩ আগস্ট দিবাগত রাতে নাটোরের মাধনগর এলাকায় রেললাইনে শিকল পেঁচিয়ে তালা লাগিয়ে রাখা হয় যাতে চলন্ত ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় কি-ম্যান বিষয়টি বুঝতে পেরে চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি থামিয়ে দেন এবং পরে নিরাপদে ট্রেন চলাচল সম্ভব হয়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এটি একটি পরিকল্পিত নাশকতা। বিষয়টি ইতোমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে রেলওয়ে বা সরকারের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। এজন্য সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা অপরিহার্য।
রেললাইন বা আশপাশে কোনো সন্দেহজনক কিছু লক্ষ্য করলে বা দুর্ঘটনার আশঙ্কাজনক কিছু দেখতে পেলে তাৎক্ষণিকভাবে রেল কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রেলওয়ের হটলাইন ১৩১ অথবা জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে (টোল ফ্রি) যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানিয়েছে রেলওয়ে।