ঢাকামঙ্গলবার , ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

দিনাজপুরে চালের দাম বেড়ে নিম্ন আয়ের মানুষের ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ১৩, ২০২৬ ১২:৪৫ অপরাহ্ণ । ১৮৩ জন

আমনের ভরা মৌসুম চলছে; মজুত ও সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তবু দিনাজপুরে বাজারে চালের দাম বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলেছে। মিলার ও চাল ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, ধানের দাম বাড়লে চালের দাম বেড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক।

ধান ও চাল উৎপাদনের ক্ষেত্রে দিনাজপুর দেশের অন্যতম জেলা। আমন ধান কাটা ও মাড়াই শেষ হয়েছে, এখন হাটে-বাজারে চলছে জমজমাট বেচাকেনা। স্থানীয় মিলার ও চাল ব্যবসায়ীদের কাছে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও চালের দাম কমছে না, বরং প্রতি কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। আতপ চিকন জিরা কাঠারীর দাম বেড়েছে কেজিতে ১২ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত।

দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজারে বর্তমানে চালের দামের অবস্থাঃ ব্রি-২৮: ৫৮–৬২ টাকা/কেজি, ব্রি-২৯: ৫৬–৬০ টাকা/কেজি, সুমন স্বর্ণ: ৪৮–৪৯ টাকা/কেজি, গুটি স্বর্ণ: ৪৬–৪৭ টাকা/কেজি, মিনিকেট: ৭০–৭৫ টাকা/কেজি, নাজির শাইল: ৭৮–৮৫ টাকা/কেজি, সিদ্ধ কাঠারী: ১৪০ টাকা/কেজি, জিরা কাঠারী: ১১৫–১৩০ টাকা/কেজি, বাসুমতি: ৮২ টাকা/কেজি।

দাম বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ। খুচরা ব্যবসায়ী প্রদ্যুত কুমার রায় বলেন, “আড়তদারদের কাছ থেকে প্রতি বস্তায় ১০০–১৫০ টাকা বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে।”

আড়তদার এরশাদ জানিয়েছেন, “বড় অটো রাইস মিল ও করপোরেট কোম্পানিগুলো মূলত বাজার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।” মিলাররা দাবি করছেন, ধানের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই চালের দাম নির্ধারণ করা হয়। আজিজুল ইকবাল চৌধুরী, মিলার-চালকল মালিক গ্রুপের যুগ্ম সম্পাদক বলেন, “মিলারদের কাছে তেমন চাল মজুত নেই। ধান সংরক্ষণ করে চাল ক্রাশিং করতে হয়। যারা খাদ্য অধিদফতরের লাইসেন্স নেই, তারা বিভিন্ন গুদামে চাল ও ধান মজুত করছে। খাদ্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে বাজারে সুফল পাওয়া যাবে।”

দিনাজপুর জেলার বার্ষিক চালের চাহিদা ৭ লাখ মেট্রিক টন, উৎপাদন হয় প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন। উদ্বৃত্ত ৯ লাখ মেট্রিক টন চাল জাতীয় খাদ্য ভাণ্ডারে যায়। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী জানান, জেলায় চুক্তি যোগ্য অটো রাইস মিল রয়েছে ২৯০টি এবং হাসকিং মিল রয়েছে ১,২১০টি।