ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • অন্যান্য

ইতিহাসে টিকে থাকা পৃথিবীর প্রাচীনতম দেশগুলি

রঞ্জন কুমার দে
সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৫ ৫:০০ পূর্বাহ্ণ । ২০৫ জন

মানবসভ্যতার ইতিহাস হাজার বছরের। সময়ের সাথে বদলেছে মানুষ, সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা। তবে পৃথিবীতে কিছু দেশ আছে, যাদের ইতিহাস এতটাই প্রাচীন যে তারা কেবল মানচিত্রের সীমারেখা নয়-বরং সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার জীবন্ত সাক্ষ্য। যুদ্ধ, উপনিবেশ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা রাজনৈতিক অস্থিরতা-সবকিছু পেরিয়েও এই রাষ্ট্রগুলো টিকে আছে অবিচলভাবে। আজ আমরা সেই প্রাচীনতম দেশগুলোর ইতিহাসে সম্পর্কে জেনে নেব।

ইরান: প্রাচীন পারস্যের উত্তরসূরি


প্রায় ৩২০০ খ্রিস্টপূর্বে এলামাইট সভ্যতা থেকে যাত্রা শুরু করে পরবর্তীতে পারস্য সাম্রাজ্যে রূপ নেয় ইরান। সাইরাস দ্য গ্রেটের শাসনে গড়ে ওঠা বহুজাতিক সাম্রাজ্য ছিল সহনশীলতা ও বৈচিত্র্যের অনন্য উদাহরণ।

মিশর: পিরামিডের ছায়ায় সভ্যতার জন্ম


৩১০০ খ্রিস্টপূর্বে প্রথম ফারাও নরমার উচ্চ ও নিম্ন মিশরকে একত্র করলে এখানে জন্ম নেয় একীকৃত রাষ্ট্র। পিরামিড, মমি ও হায়ারোগ্লিফ আজও সেই গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে।

ভিয়েতনাম: কিংবদন্তির হং বান রাজ্য


খ্রিস্টপূর্ব ২৮৭৯ সালে হং বান রাজবংশ রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে যুদ্ধ, ঔপনিবেশিক শাসন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা পেরিয়েও ভিয়েতনাম তার ঐতিহ্য অটুট রেখেছে।

আর্মেনিয়া: হায়ক বংশের গৌরব


খ্রিস্টপূর্ব ২৪৯২ সালে হায়ক বংশের শাসনে জন্ম নেয় আর্মেনিয়া। খ্রিস্টধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে গ্রহণ করা বিশ্বের প্রথম দেশও এটি।

চীন: অবিরাম ধারায় প্রবাহমান সভ্যতা


চীনের রাষ্ট্রীয় ইতিহাস শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব ২০৭০ সালে শা রাজবংশ দিয়ে। গ্রেট ওয়াল, সিল্ক রোডসহ দীর্ঘকাল ধরে চীন বিশ্বের অন্যতম ধারাবাহিক সভ্যতার পরিচয় বহন করছে।

ভারত: সিন্ধু সভ্যতার উত্তরসূরি


হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর নিদর্শন বহন করছে প্রাচীন ভারতের উত্তরাধিকার। পরবর্তীতে মগধ, মউর্য, গুপ্ত, মুঘল ও ব্রিটিশ শাসনের মধ্য দিয়ে ভারত গড়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন রাষ্ট্র হিসেবে।

জর্জিয়া: কোলচিসের কাহিনি


খ্রিস্টপূর্ব ১৩০০ সালে কোলচিস ও ইবেরিয়া রাজ্যের মাধ্যমে গড়ে ওঠে জর্জিয়া। গ্রিক পুরাণে আর্গোনটসদের সোনার পশম খোঁজার কাহিনিতেও এর নাম উঠে এসেছে।

ইথিওপিয়া: আফ্রিকার গর্ব


আকসুম সাম্রাজ্যের উত্তরসূরি ইথিওপিয়া আফ্রিকার স্বাধীনতা ও প্রতিরোধের প্রতীক। ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকা এই দেশটির শিলাখোদিত গির্জাগুলো আজও সেই প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে।

গ্রীস: দর্শন ও গণতন্ত্রের জন্মভূমি


মাইসেনিয়ান সভ্যতা থেকে শুরু করে এথেন্স ও স্পার্টার নগররাষ্ট্র-সব মিলিয়ে গ্রীস হয়ে উঠেছিল দর্শন, বিজ্ঞান ও গণতন্ত্রের জন্মভূমি। সক্রেটিস, প্লেটো ও এরিস্টটলের ভাবনা আজও মানবসভ্যতার ভিত্তি।

জাপান: সূর্যোদয়ের দেশ


খ্রিস্টপূর্ব ৬৬০ সালে সম্রাট জিম্মুর হাত ধরে জাপানের রাষ্ট্রীয় যাত্রা শুরু হয়। বিশ্বের দীর্ঘতম বংশানুক্রমিক রাজপরিবার হিসেবে জাপান আজও অনন্য।

সান মারিনো: ক্ষুদ্র অথচ প্রাচীন


ইউরোপের ছোট্ট দেশ সান মারিনো জন্ম নেয় ৩০১ খ্রিস্টাব্দে। বিশ্বের প্রাচীনতম সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে এর গৌরব ইতিহাস আজও অক্ষুণ্ণ।

বিশ্বের প্রাচীনতম রাষ্ট্রগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সভ্যতা কখনও একদিনে গড়ে ওঠে না; বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের সংগ্রাম, জ্ঞানচর্চা, সংস্কৃতি ও ঐক্যের ভিত্তিতেই তা দাঁড়িয়ে থাকে। ইরানের পারস্য, মিশরের পিরামিড, ভারতের সিন্ধু কিংবা গ্রীসের দর্শন-সবই আজও মানবজাতিকে অনুপ্রাণিত করে। এই দেশগুলো কেবল অতীতের ইতিহাস নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও শিক্ষার এক অফুরন্ত ভাণ্ডার।