ঢাকাশুক্রবার , ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

২০০’র বেশি গবেষণা, জাতীয় নীতিমালা, কর্মকৌশল ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন প্রণয়নে অবদান

জনস্বাস্থ্য গবেষণায় প্রমাণভিত্তিক অবদানে সিআইপিআরবি’র ২১ বছরের অগ্রযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ ১২:১৫ অপরাহ্ণ । ৪৭ জন

২০০৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরুর পর থেকে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) দেশের জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও জনগণের সার্বিক কল্যাণে এক অনন্য ও অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে। ইনজুরি প্রতিরোধকে মূল লক্ষ্য করে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করলেও, গত ২১ বছরে প্রতিষ্ঠানটি মা ও শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য, সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধসহ জনস্বাস্থ্যের বহুমাত্রিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

জনস্বাস্থ্য গবেষণায় একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিআইপিআরবি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য জার্নালে প্রতিষ্ঠানটির গবেষকদের প্রায় ২৩০টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নীতিমালা, গাইডলাইন ও কৌশলপত্র প্রণয়নে সিআইপিআরবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সিআইপিআরবি’র গবেষণালব্ধ তথ্য ও প্রমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতিসংঘের পৃথক দুটি রেজুলেশনে উল্লেখযোগ্যভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যা প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক অবদানের স্বাক্ষর। এ ছাড়া শিশুদের ইনজুরি ও পানিতে ডুবে যাওয়া প্রতিরোধে দুটি গ্লোবাল রিপোর্ট প্রণয়নে এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা কার্যক্রমে সক্রিয় অবদান রেখে চলেছে সিআইপিআরবি।

গবেষক, মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকসহ ছয় হাজারের বেশি নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর সম্মিলিত প্রয়াসে সিআইপিআরবি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে টেকসই স্বাস্থ্য উন্নয়নে কাজ করছে। গত একুশ বছরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের ৫৫ লাখের বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সেবা পেয়েছেন এবং প্রায় ৬১ হাজার মানুষের কর্মদক্ষতা উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।

এই দীর্ঘ পথচলার অর্জন উদযাপন উপলক্ষে সিআইপিআরবি’র সভাকক্ষে উদযাপন অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। শুরুতেই সিআইপিআরবি’র ২১ বছরের গৌরবান্বিত যাত্রার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন ড. সেলিম মাহমুদ চৌধুরী, ডিরেক্টর, হেলথ সিস্টেম রিসার্চ অ্যান্ড রোড ট্রাফিক ইনজুরি প্রিভেনশন ইউনিট, জেনারেল সেক্রেটারি, এডভাইসারি টীম, সিআইপিআরবি।

অধ্যাপক ড. এম এ হালিম, ডিরেক্টর, রিপ্রোডাকটিভ অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ ডিভিশন, সিআইপিআরবি’র ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশ, প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষে বৃদ্ধি ও সার্বিক মানোন্নয়নে কাজ করার পরামর্শ দেন ।

স্মৃতিচারণ ও প্রতিশ্রুতি পর্বে সিআইপিআরবি’র সদস্যরা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকার গর্বের মুহূর্তগুলো স্মরণ করেন এবং ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানকে আরও এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

২১ বছরের যাত্রার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যা কিছু অর্জন তা আলোচনা করেন প্রতিষ্ঠানের উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. আমিনুর রহমান। সিআইপিআরবি-র অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের অক্লান্ত পরিশ্রম, একাগ্রতা ও নিষ্ঠার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

আগামী দিনের পথচলায় সিআইপিআরবি’র কর্মকৌশল ও কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনা করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক, অধ্যাপক ড. একেএম ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, “সিআইপিআরবি পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে ও উদ্ভূত সমস্যাসমূহের উপযুক্ত ও ফলপ্রসূ সমাধান খুঁজে বের করতে প্রয়োজনীয় গবেষণা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। মানব কল্যাণের ব্রত নিয়ে যে যাত্রা আমরা শুরু করছিলাম,  অনুপ্রেরণা,সাহস আর দৃঢ়তার সাথে সিআইপিআরবির সুদক্ষ সদস্যগণ তা এগিয়ে নিয়ে যাবে।”দেশের স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাসহ দেশি ও বিদেশি সাহায্য সংস্থা, সংবাদ মাধ্যম, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার, পিবিজিএম, পিবিজিএমএস(অব), ডিরেক্টর, হিউম্যান রিসোর্চ অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সিআইপিআরবি সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। সিআইপিআরবিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে সকল সদস্যকে সততা, নিয়মানুবর্তিতা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহ্বান এবং সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।