ঢাকাবুধবার , ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

শেরপুরে পাট কাটার ধুম, ৪০ কোটি টাকার ফলনের প্রত্যাশা

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:২১ বিকাল

Link Copied!

শেরপুরে এখন পাট কাটার ধুম পড়েছে। জেলার বিভিন্ন জলাশয়ে চলছে পাট জাগ দেওয়া, আঁশ ছড়ানো, শুকানো ও পাটকাঠি সংগ্রহের কাজ। সোনালি আঁশের রং বদলাচ্ছে গ্রামীণ জনপদ। শ্রাবণের ধারার সঙ্গে মিতালী করে কৃষক-কৃষাণীরা মেতে উঠেছেন পাটের কাজে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এক দশক আগেও জেলায় পাটের আবাদি জমি ছিল চলতি বছরের প্রায় অর্ধেক। চলতি বছর ১ হাজার ৯১১ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৯১২ হেক্টর জমিতে। উৎপাদিত পাটের বাজারমূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের তথ্যমতে, প্রতি বিঘায় পাটের গড় ফলন হয় ১০ থেকে ১২ মণ। উৎপাদন খরচ বাদে প্রতি বিঘায় মুনাফা থাকে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া পাটখড়ির আঁটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন কৃষকেরা।

তবে পাটের ন্যায্য দাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চাষিরা। তাঁদের দাবি, পাটের দাম যাতে কমে না যায়, সে জন্য সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। তা না হলে কৃষকদের আগ্রহ কমার পাশাপাশি তাঁরা পাটের ন্যায্য দাম থেকেও বঞ্চিত হবেন।

পাটচাষিরা জানান, খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা বিভিন্ন জায়গা থেকে কম দামে পাট কিনে বড় মহাজনদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করেন। এতে কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

দেশে পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর চাহিদাও বাড়ছে। পাট জাগ দেওয়াসহ চাষাবাদের বিভিন্ন বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘পাট কাটা শুরু হয়েছে। ফলন তুলনামূলক ভালো হয়েছে। কৃষকেরা কোনো ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হলে আমরা তাঁদের পরামর্শ দিচ্ছি।’

চলতি বছর পাটের চাষ বাড়াতে প্রায় ৮ হাজার কৃষকের মধ্যে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ১ কেজি করে পাটবীজ ও ১২ কেজি করে রাসায়নিক সার বিতরণ করেছে পাট অধিদফতর।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন