
সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১৯৩ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে বিভাগে হামের সন্দেহজনক ও নিশ্চিত মৃত্যু মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৮ জনে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া তিনজনই শিশু। তাঁদের মধ্যে দুজন সুনামগঞ্জের এবং একজন মৌলভীবাজারের বাসিন্দা। মৃত শিশুদের দুজন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৬২ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭১ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৬ জন এবং পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন, কোম্পানীগঞ্জে ৪ জন, ধর্মপাশায় ১ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২৫ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৫১৮ জন সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৯২ জন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১৫৪ জন।
এ ছাড়া রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ১৩ জন এবং পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৪৩ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২২ জন এবং হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৭ জন রোগী ভর্তি আছেন। বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের জেলা-ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সিলেটে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হামে হয়েছে। হবিগঞ্জে সন্দেহজনক মৃত্যু ১৯ জন, নিশ্চিত মৃত্যু ৪ জন। মৌলভীবাজারে সন্দেহজনক মৃত্যু ১৪ জন, নিশ্চিত মৃত্যু ১ জন। সুনামগঞ্জে সন্দেহজনক মৃত্যু ৬২ জন এবং নিশ্চিত মৃত্যু ১ জন।
সব মিলিয়ে সিলেট বিভাগে এখন পর্যন্ত হামের সন্দেহজনক ও নিশ্চিত মৃত্যু মিলিয়ে মোট ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হামে এবং ১৫৮ জনের মৃত্যু সন্দেহজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।