ঢাকাবুধবার , ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জনস্বাস্থ্য

ধূমপায়ী যক্ষ্মা রোগীদের নতুন আশা দেখাচ্ছে ‘কুইট ফোর টিবি’

প্রতিবেদক
হাসান মাহমুদ
১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০২ সকাল

Link Copied!

যক্ষ্মা (টিবি) এবং তামাকের ব্যবহার-উভয়ই বর্তমান বিশ্বের জনস্বাস্থ্যের জন্য এক ভয়াবহ ও দ্বিমুখী হুমকি। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি এবং যক্ষ্মা নিরাময়ে বিশ্বব্যাপী নিরলস প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এই রোগ নির্মূলের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ধূমপান এক অদৃশ্য অথচ অত্যন্ত শক্তিশালী বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। তামাকের ধোঁয়া কেবল ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় না বরং যক্ষ্মার বিরুদ্ধে লড়াইরত রোগীর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। জনস্বাস্থের এই সংকটের গভীরতা উপলব্ধি করে সম্প্রতি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের গবেষকরা যক্ষ্মা রোগীদের ধূমপান ত্যাগে সহায়তা করার জন্য একটি অনন্য ও যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

‘কুইট ফোর টিবি’ নামক আন্তর্জাতিক এই গবেষণার মাধ্যমে ‘এমটিবি-টব্যাকো’ নামক একটি ডিজিটাল স্বাস্থ্য বা ‘মোবাইল হেলথ’ ইন্টারভেনশনের কার্যকারিতা, উপযোগিতা ও ব্যয়-সাশ্রয়ী সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে। প্রযুক্তি এবং জনস্বাস্থ্যের এই সমন্বয় কেবল দুই দেশের জন্যই নয়, বরং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

# যক্ষ্মা ও ধূমপান বর্তমান বিশ্বের জনস্বাস্থ্যের ভয়ংকর দ্বিমুখী হুমকি
# ২০২৪ সালে বিশ্বে ১ কোটি ৭ লাখ নতুন রোগী আক্রান্ত হয়েছেন
# ধূমপায়ী যক্ষ্মা রোগীদের ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে ৫১ শতাংশ বেশি
# এমটিবি-টব্যাকোর কার্যকারিতা ও ব্যয়-সাশ্রয়ী সক্ষমতা যাচাই হচ্ছে
# গবেষণায় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে ২৭০০ জন রোগীকে নির্বাচন
# রোগীদের ৬ মাস মেয়াদে ১৩৪টি বিশেষ এসএমএস পাঠানো হবে
# গবেষণা সফল হলে নিম্ন ওআয়ের দেশগুলোর জন্য আশীর্বাদ হবে

যক্ষ্মা ও ধূমপানের ভয়াবহ আন্তঃসম্পর্ক:

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০২৪ সালের বৈশ্বিক যক্ষ্মা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ১ কোটি ৭ লাখ মানুষ নতুন করে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৫৮ লাখ, নারী ৩৭ লাখ এবং শিশু ১২ লাখ। এই রোগে মারা গেছেন প্রায় ১২ লাখ ৩০ হাজার মানুষ। একক কোনো সংক্রামক রোগ হিসেবে যক্ষ্মা এখনো বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। ওই বছর ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মায় আক্রান্ত মাত্র ৫ জনের মধ্যে প্রায় ২ জন (প্রায় ৪০%) চিকিৎসার আওতায় আসতে পেরেছেন।

গবেষকদের মতে, যক্ষ্মা রোগীদের মধ্যে যারা নিয়মিত ধূমপান করেন, তাদের সুস্থ হওয়ার পথে বাধাগুলো অনেক বেশি। ধূমপায়ী যক্ষ্মা রোগীদের চিকিৎসার ফলাফল খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের চেয়ে ৫১ শতাংশ বেশি এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই ঝুঁকি প্রায় ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ধূমপানের কারণে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ায় যক্ষ্মার জীবাণু শরীর থেকে অপসারণের প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন থেকে রোগীদের ঝরে পড়ার প্রবণতাও বেড়ে যায়।

গবেষণার পটভূমি ও প্রকাশনা:
ধূমপায়ী যক্ষ্মা রোগীদের নিয়ে যে গবেষণাটি চলছে তার দাপ্তরিক শিরোনাম—‘এমহেলথ ইন্টারভেনশন (এমটিবি-টব্যাকো) ফর স্মোকিং সেসেশন ইন পিপল উইথ ড্রাগ-সেন্সিটিভ পালমোনারি টিউবারকুলোসিস ইন বাংলাদেশ অ্যান্ড পাকিস্তান: প্রোটোকল ফর অ্যান অ্যাডাপ্টিভ ডিজাইন, ক্লাস্টার র্যা ন্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়াল (কুইটফোরটিবি)।’ সম্প্রতি এটি ‘বিএমজে ওপেন’ নামক আন্তর্জাতিক পিয়ার-রিভিউড জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাটি মূলত যক্ষ্মা রোগীদের মধ্যে তামাকের আসক্তি কমিয়ে তাদের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানোর একটি বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টা।

গবেষণায় যুক্ত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল:
বাংলাদেশ, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া ও জার্মানির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুক্তরাজ্যের ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরান সিদ্দিকী। বাংলাদেশ থেকে গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাক ও আর্ক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও গবেষক রুমানা হক। পাকিস্তান থেকে গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন গবেষণা সংস্থা দ্য ইনিশিয়েটিভ-এর নির্বাহী পরিচালক আমিনা খান। এছাড়া, যুক্তরাজ্যের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়, ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়, মালয়েশিয়ার মালয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং জার্মানির ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও এই দলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে গবেষণা:
এটি মূলত একটি বহুমুখী, ক্লাস্টার র্যা ন্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়াল (সিআরসিটি)। ট্রায়ালটি দুটি ধাপে বিভক্ত। প্রথম ধাপে প্রচলিত সাধারণ চিকিৎসার তুলনায় ‘এমটিবি-টব্যাকো’ পদ্ধতির শ্রেষ্ঠত্ব যাচাই করা হবে। যদি এটি সফল হয়, তবে দ্বিতীয় ধাপে এটি সরাসরি মুখোমুখি আচরণগত সহায়তার চেয়ে কম কার্যকর নয়, তা প্রমাণ করার চেষ্টা করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত যক্ষ্মা কেন্দ্রগুলোকে র্যা ন্ডমাইজ করে একদল রোগীকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এমহেলথ (এমটিবি-টব্যাকো) প্যাকেজের আওতায় স্বয়ংক্রিয় এসএমএস পাঠানো হবে, যা তাদের ধূমপান ত্যাগ করতে ও যক্ষ্মা চিকিৎসায় উদ্বুদ্ধ করবে।

পাকিস্তানকে কেন বেছে নেওয়া হলো:
বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানকে এই গবেষণার জন্য বেছে নেওয়ার মূল কারণ হলো দুটি দেশই যক্ষ্মার উচ্চ প্রাদুর্ভাব বা উচ্চ বোঝা বহনকারী দেশগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। এই দুটি দেশে যক্ষ্মা ও তামাক ব্যবহারের একটি দ্বিমুখী বোঝা বিদ্যমান, যা যক্ষ্মা নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামো ও সীমাবদ্ধতাগুলোর মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে, যেখানে সরাসরি আচরণগত কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি সাশ্রয়ী ও ডিজিটাল স্বাস্থ্য পদ্ধতি বা মোবাইল হেলথ-এর কার্যকারিতা যাচাই করা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি পদক্ষেপ।

গবেষণায় ব্যবহৃত পরিভাষা:
বর্তমানে যক্ষ্মা রোগীদের সরাসরি (ফেস টু ফেস) কাউন্সেলিং সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা বড় বাধা। এই শূন্যতা পূরণের জন্য ‘এম হেলথ’ বা মোবাইল স্বাস্থ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে এসএমএস ইন্টারভেনশন ব্যবহার করা হচ্ছে। গবেষণায় ব্যবহৃত কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা ব্যবহৃত হয়েছে।

মোবাইল হেলথ বা মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা হলো- এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট, স্মার্টওয়াচ এবং ওয়্যারলেস ডিভাইসের মতো মোবাইল প্রযুক্তির সাহায্যে স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা তথ্য এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত শিক্ষা প্রদান করা হয়। যেমন- মোবাইলের মাধ্যমে রোগীদের স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক বার্তা, ওষুধ খাওয়ার সময়সূচি বা পরামর্শ এসএমএস বা বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো হয়। হাসপাতালের বাইরে থাকা রোগীদের সাথে চিকিৎসকদের যোগাযোগ রক্ষা করা এবং নিয়মিত মনিটরিং করা সহজ হয়। এর মাধ্যমে যক্ষ্মার মতো দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত রোগীদের ধূমপান ত্যাগ বা নিয়মিত ওষুধ সেবনের মতো জীবনযাত্রার পরিবর্তনে এটি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

‘রিসার্চ ইলেকট্রনিক ডাটা ক্যাপচার’ (রেডক্যাপ) হলো যেখানে রোগীদের আলাদা না করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে নির্দিষ্ট গ্রুপে ভাগ করে পরীক্ষা চালানো হয়।
‘নন-ইনফেরিয়রিটি ট্রায়াল’- হলো নতুন পদ্ধতিটি পুরনো পদ্ধতির চেয়ে পিছিয়ে নেই—এটি প্রমাণ করার জন্য পরিচালিত ট্রায়াল।

গবেষণার নমুনা ও তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি:
গবেষণাটি বাংলাদেশ (ঢাকা বিভাগ) এবং পাকিস্তানের (পাঞ্জাব প্রদেশ) বিভিন্ন যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে পরিচালিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্র থেকে ২ হাজার ৭০০ জন ধূমপায়ী যক্ষ্মা রোগীকে এই গবেষণার জন্য নির্বাচন করা হচ্ছে। নির্বাচনের ক্ষেত্রে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী রোগী, যারা ড্রাগ-সেনসিটিভ পালমোনারি যক্ষ্মায় আক্রান্ত এবং নিয়মিত ধূমপায়ী তাদের নমুনা হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে। তথ্যের সর্বোচ্চ সুরক্ষা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে ‘রিসার্চ ইলেকট্রনিক ডাটা ক্যাপচার’ (রেডক্যাপ) নামক একটি নিরাপদ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হচ্ছে।

গবেষণার ধাপ:
গবেষণাটি চার-পর্যায়ে একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে; যার প্রথম ধাপে রোগীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে (পিপিআই) এসএমএস বার্তাগুলো স্থানীয় ভাষায় সহজ করা হয়েছে, দ্বিতীয় ধাপে ১৬ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর প্রযুক্তিটির প্রাথমিক ব্যবহারিক দিক পাইলট স্টাডি হিসেবে যাচাই করা হয়েছে, তৃতীয় ধাপে সাধারণ যক্ষ্মা চিকিৎসার তুলনায় ‘এমটিবি-টব্যাকো’ পদ্ধতির শ্রেষ্ঠত্ব পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং চতুর্থ বা শেষ ধাপে এই ডিজিটাল পদ্ধতিটি সরাসরি ফেস-টু-ফেস কাউন্সেলিংয়ের সমমানের বা অ-নিকৃষ্ট ফলাফল দিতে পারে কি না, তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

কাজের পদ্ধতি ও ফলাফল যাচাই:
অংশগ্রহণকারীদের ৬ মাস মেয়াদে মোট ১৩৪টি বিশেষ এসএমএস পাঠানো হবে। তবে কেবল এসএমএস নয়, ফলাফলের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাইয়ে গবেষণায় কঠোর বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড রাখা হয়েছে। যেমন- নিঃশ্বাসে ক্ষতিকর গ্যাসের মাত্রা পরীক্ষা ও নিকোটিনের উপস্থিতি পরীক্ষার জন্য ডিপস্টিক টেস্ট। যাদের পরীক্ষায় কার্বন মনোক্সাইড মাত্রা বেশি পাওয়া যাবে, তাদের ধূমপায়ী হিসেবেই গণ্য করা হবে, এমনকি তারা ধূমপান ত্যাগের দাবি করলেও।

গবেষণার গুরুত্ব:
গবেষণাটি ‘কস্ট-ইফেক্টিভনেস’ বা অর্থনৈতিক উপযোগিতা যাচাইয়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। গবেষকদের মতে, প্রযুক্তির সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয় ঘটিয়ে রোগী পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দেওয়ার এই মডেলটি সফল হলে তা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য এক আশীর্বাদ হয়ে উঠবে। গবেষণার এই ট্রায়ালটি আন্তর্জাতিক ‘গুড ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস’ (জিসিপি) নির্দেশিকা মেনে পরিচালিত হচ্ছে এবং বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি) সহ সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় নৈতিক কমিটির অনুমোদন পেয়েছে।

গবেষকদের বক্তব্য:
যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে ওষুধ ও রোগ নির্ণয়ের পাশাপাশি তামাক ব্যবহার বন্ধ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন আর্ক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও গবেষক ড. রুমানা হক। তার মতে, ধূমপান যক্ষ্মার চিকিৎসার ফলাফলকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে এবং সুস্থ হওয়ার পথে বড় বাধা সৃষ্টি করে।

তিনি বলেন,‘কুইট ফর টিবি’ গবেষণার মাধ্যমে প্রচলিত চিকিৎসার সঙ্গে একটি সহজ, কম খরচের ও সহজে সম্প্রসারণযোগ্য ডিজিটাল তামাক-নিরোধী হস্তক্ষেপ যুক্ত করার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো সীমিত সম্পদের দেশে নিয়মিত সরাসরি কাউন্সেলিং করা কঠিন হওয়ায় মোবাইল ফোনভিত্তিক এই ডিজিটাল পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না বাড়িয়ে একই সঙ্গে বৃহৎ সংখ্যক রোগীর কাছে সেবা পৌঁছানো এবং খরচ কমানো সম্ভব। এই ব্যয়-সাশ্রয়ী মডেল সফল হলে তা বাংলাদেশসহ অন্যান্য উচ্চ যক্ষ্মা-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করেন এই গবেষক।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ বাড়ছে, চলতি বছর মৃত্যু ৪

শেরপুরে পাট কাটার ধুম, ৪০ কোটি টাকার ফলনের প্রত্যাশা

সন্ধ্যার মধ্যে চার অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

আড়াই লাখ কোটি টাকায় তিন মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৬৮ বাংলাদেশি

২০৩০ সালের মধ্যে ৬৮৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প করবে পিডিবি

সিলেটের পর্যটন-চা ও শিল্পে বিনিয়োগের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

দেশের ৫ বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা

খিলক্ষেতে ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু

চাঁদপুরে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২

চিরিরবন্দরে ধানখেতে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু