
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআরনসি) চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাব দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী মহামারী হিসেবে রূপ নিয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ২৩২৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
সর্বশেষ পরিসংখ্যান:
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে মোট ৪ হাজার ৯৪৫ জন ইবোলা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে মারা গেছেন ২ হাজার ৩২৫ জন। বর্তমান এই মহামারীতে মৃত্যুর হার বা কেস ফেটালিটি রেট প্রায় ৪৭ শতাংশ। এর মাধ্যমেই পূর্ব কঙ্গোতে ২০১৮-২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবের মৃত্যুর রেকর্ড ছাড়িয়ে বর্তমান মহামারীটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, এর আগের ওই প্রাদুর্ভাবটিতে ৩ হাজার ৪৮১ জন আক্রান্তের বিপরীতে মৃত্যু হয়েছিল ২ হাজর ২৯৯ জনের।
যেভাবে ছড়াল প্রাদুর্ভাব:
১৯৭৬ সালে কঙ্গোতে প্রথম ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এটি দেশটির ১৭তম প্রাদুর্ভাব। চলতি বছরের গত ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হয়, যা ইবোলার ‘বুন্দিবুগিও’ প্রজাতির মাধ্যমে ছড়াচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশটির ছয়টি প্রদেশের প্রায় ৫৫টি স্বাস্থ্য জোন এই মহামারীর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইতুরি, উত্তর কিভু, হাউট-উয়েলে, শোপো, দক্ষিণ কিভু এবং বাস-উয়েলে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কবার্তা:
এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস জেনেভায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সতর্ক করে বলেছিলেন, কঙ্গোর এই প্রাদুর্ভাবটি ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এটি বর্তমানে ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা মহামারী এবং এর ছড়ানোর গতি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত। বর্তমানে যে গতিতে এটি ছড়াচ্ছে, তাতে এটি ২০১৪-২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার সবচেয়ে বড় ইবোলা মহামারীকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
সংকট মোকাবিলায় দেশটির স্বাস্থ্যকর্মী ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দুর্গম অঞ্চলগুলোতে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: সিজিটিএন