ঢাকায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসবগুলো উদযাপন করা হয়েছে। র্যালি ও আলোচনা সভা থেকে ঘোষণা এসেছে—এখন থেকে আর ‘বৈসাবি’ নয়, প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী তাদের নিজ নিজ উৎসবের নামেই উদযাপন করবে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বেইলি রোডস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স থেকে শুরু হওয়া র্যালিটি রমনা পার্ক লেকে ‘বিজু ফুল’ সমর্পণের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।
মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, অতীতে ‘বৈসাবি’ নামকরণের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিসত্ত্বার মধ্যে বৈষম্য তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সরকার সে অবস্থান থেকে সরে এসে বৈষম্যহীন সংস্কৃতি চর্চায় গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান ও চাংলান—সব উৎসবই নিজ নিজ নামে উদযাপিত হবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সমান সম্মান পাবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে কোনো বিভাজন থাকবে না। এই আয়োজন পাহাড়ি-বাঙালি ঐক্যের প্রতীক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে একটি সম্প্রীতিময় রাষ্ট্র গড়ে তোলার প্রত্যয় রয়েছে সরকারের। “সবার আগে বাংলাদেশ”—এই নীতিতে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
র্যালিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং ঢাকায় বসবাসরত তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। শেষে রমনা পার্কের লেকে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।


