ঢাকাবুধবার , ২৫ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

খাল শুকিয়ে সেচ সংকট, পুনঃখননের দাবিতে পাথরঘাটায় মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ২৫, ২০২৬ ১২:১৭ অপরাহ্ণ । ৮ জন

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা খালে পানি না থাকায় সেচ সংকটে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। খালটি প্রায় শুকিয়ে যাওয়ায় আলু চাষসহ কৃষিকাজে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

এ অবস্থায় খাল পুনঃখননের দাবিতে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন কৃষক পরিবারের সদস্যরা।

উপজেলার দক্ষিণ কূপদোন এলাকায় আয়োজিত এ মানববন্ধনে কলসি ও জাল নিয়ে অংশ নেন স্থানীয়রা। কর্মসূচির আয়োজন করে দক্ষিণ কূপদোন আলুচাষি সমিতি। মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বিষখালী নদীর উৎস থেকে কালমেঘা বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের দাবি জানান।

সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সমাজকর্মী গোলাম মোস্তফা, ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, আনোয়ার হাজি, পরিবেশকর্মী আরিফুর রহমান, শফিকুল ইসলাম খোকন ও মো. জসীম উদ্দিনসহ অনেকে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় কালমেঘা খাল ছিল এলাকার প্রাণ। এখন খালের বুকজুড়ে কাদা ও আগাছা জমে থাকায় পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সেচের জন্য কৃষকদের বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।

কূপদোন গ্রামের কৃষক ও গ্রাম পুলিশ খলিলুর রহমান বলেন, আগে খাল থেকেই সেচের পানি পাওয়া যেত। এখন দূরের পুকুর থেকে পানি এনে জমিতে দিতে হচ্ছে, এতে খরচ ও শ্রম দুটোই বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদন খরচ উঠছে না।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, একসময় এ এলাকার কয়েকশ একর জমিতে আলু চাষ হতো। কিন্তু পানি সংকটের কারণে চাষের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। অনেক কৃষক বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক প্রবীণ কৃষক বলেন, “এই খালই আমাদের বাঁচার পথ। খালে পানি না থাকলে চাষাবাদ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, স্থানীয় সেচব্যবস্থার ভাঙন দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চলতি বছরে রূপদোন ও কূপদোন এলাকায় ৫০৬ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে, যেখানে গত বছর ছিল ৫৬০ হেক্টর।

তিনি আরও জানান, খাল পুনঃখননের জন্য প্রেরিত তালিকায় কালমেঘা খালকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান বলেন, খাল পুনঃখনন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য খালের পাশাপাশি কালমেঘা খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় সেচব্যবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।