মহিষ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলেও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল। এখন সময় এসেছে এই সম্পদকে কাজে লাগানোর। সরকারের পক্ষ থেকে এ খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, “মহিষের দই বাংলাদেশের জিআই পণ্য হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে। শুধু দই নয়, মহিষের দুধ থেকে চিজসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের প্রশিক্ষণ দিলে খামারিদের আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এসব পণ্য রপ্তানিযোগ্য হিসেবেও অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।”
বুধবার (৮ অক্টোবর) সাভারের মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারে অনুষ্ঠিত ‘বৈজ্ঞানিক সম্মেলন–২০২৫’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ বাফেলো অ্যাসোসিয়েশন।
উপদেষ্টা আরও বলেন, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ একসঙ্গেই খাদ্য উৎপাদনের মূলভিত্তি গড়ে তোলে। কিন্তু অনেক সময় খাদ্য উৎপাদন বলতে শুধু কৃষিকেই বোঝানো হয়। কৃষিতে কীটনাশক ও আগাছানাশকের ব্যবহার বাড়ায় গরু, ছাগল, মহিষ পর্যাপ্ত চারণভূমি পাচ্ছে না। “খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির নামে মহিষের চারণভূমি হ্রাস পাওয়া মোটেও কাম্য নয়,”-বলেন তিনি।
তিনি কীটনাশক ব্যবহারে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং কৃষি ও প্রাণিসম্পদে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করার ওপর জোর দেন।
ফরিদা আখতার আরও বলেন, “গবাদিপশুর তালিকায় মহিষকে যথাযথভাবে স্থান দেওয়া হয়নি। প্রাণিসম্পদ খাতে মহিষের গুরুত্ব এখনো অবমূল্যায়িত। দেশে মহিষের সংখ্যা কমে যাওয়া উদ্বেগজনক। চারণভূমির অভাব মহিষ পালনের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
বাংলাদেশ বাফেলো অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে আয়োজিত সম্মেলনে গেস্ট অব অনার ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নীলুফা আক্তার, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান এবং বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক।
এসময় বিজ্ঞানী, সরকারি ও বেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কৃষক প্রতিনিধি এবং মহিষ সেবাদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও, দুপুরে উপদেষ্টা সাভারে কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার চত্বরে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় কৃত্রিম প্রজনন ল্যাবরেটরি উদ্বোধন করেন। পরে তিনি ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করে এর আধুনিক সুবিধা ও কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান, কেন্দ্রীয় কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের পরিচালক মো. শাহজামান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


