ঢাকাশনিবার , ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • অন্যান্য

গবাদি প্রাণীতে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার মানব স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি : উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৫ ৫:৫৯ অপরাহ্ণ । ১৮৯ জন

গবাদি প্রাণীতে যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার ভবিষ্যতে মানব স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, “অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে ব্যাকটেরিয়ায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স তৈরি হচ্ছে। মানুষ ও প্রাণী পাশাপাশি বসবাস করে, তাই প্রাণিসম্পদে ক্ষতিকর কিছু ব্যবহার করা হলে তা মানুষের শরীরেও প্রভাব ফেলতে পারে।”

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সৈয়দপুরের ইক্যু হেরিটেজ হোটেল এন্ড রিসোর্ট মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন ও কর্মশালা-২০২৫ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, স্থানীয় জাতের মুরগি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশ ভৌগোলিক বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ, এখানে আঞ্চলিক সম্পদ সংরক্ষণে উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি দেশীয় হাঁসের ডিমের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি ফিড ইন্ডাস্ট্রিতেও দেশকে আত্মনির্ভর হতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গরুর মাংস আমদানি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ফরিদা আখতার বলেন, “দেশের খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সর্বদা সচেষ্ট। দেশের ক্ষতি হবে-এমন কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেবে না।” এসময় তিনি বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) স্বাদুপানি উপকেন্দ্রও পরিদর্শন করেন এবং বলেন, হারিয়ে যাওয়া মাছ ফিরিয়ে আনার জন্য গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। তিনি বলেন, খাবারের দাম বৃদ্ধি পেলে পোল্ট্রি ও ডিমের দামও বাড়বে। এজন্য কম খরচে খাদ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গবেষণা বাড়াতে হবে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক। তিনি বলেন, “মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা বাড়বে। সেই চাহিদা পূরণে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। স্থানীয় জাত সংরক্ষণ ও উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য বিএলআরআই ভবিষ্যতেও কাজ করবে।”

এসময় আরও বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নীলুফা আক্তার, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: আবদুর রউফ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান, এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএলআরআই-এর পোল্ট্রি রিসার্চ সেন্টারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. সাজেদুল করিম সরকার। মন্ত্রণালয়, বিএলআরআই ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কর্মশালায় অংশ নেন।