ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • অন্যান্য

বাংলাদেশের তুলা চাষের মানোন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কটনকানেক্ট ও সিডিবির যৌথ উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৫ ৪:৪১ অপরাহ্ণ । ২৬২ জন

দেশের তুলার গুণগত মান, টেকসই চাষাবাদ ও ট্রেসেবিলিটি শক্তিশালী করাসহ উৎপাদনশীলতা ও বাজার সংযোগ বাড়াতে কটনকানেক্ট এবং বাংলাদেশ কটন ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (সিডিবি) সম্প্রতি একটি সমঝোতা চুক্তি (MoU) স্বাক্ষর করেছে। চুক্তিটি বাংলাদেশের ৩৯টি জেলায় প্রায় ৬০,০০০ তুলা চাষীকে লাভবান করতে এবং তুলাকে দেশি তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করতে পরিকল্পিত।

এ অংশীদারিত্বে প্রযুক্তি ও জ্ঞান ভাগাভাগি, কৃষকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ, ট্রেসেবল সাপ্লাই চেইন প্রতিষ্ঠা ও আঁশের মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে। এর ফলে খামার থেকে চূড়ান্ত পণ্য পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ ও স্বচ্ছতার ব্যবস্থা তৈরি হবে, যা ব্র্যান্ড ও বৈশ্বিক ক্রেতাদের আস্থার সূচনা করবে। আগামীর বাজারে তুলাকে ব্যবহারযোগ্য করার লক্ষ্যে উচ্চমূল্যের প্রযুক্তিগত কাপড়, চিকিৎসা খাতে ব্যবহৃত বস্ত্র ও বায়ো-কম্পোজিটে মিশ্রিত পণ্য তৈরিও পরিকল্পনায় রয়েছে।

কটনকানেক্টের সিইও অ্যালিসন ওয়ার্ড বলেন, ‘চুক্তিটি বাংলাদেশের তুলা খাতকে বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যে আনার বড় পদক্ষেপ।’ ড. ফরিদ উদ্দিন, সিনিয়র এগ্রোনোমিক অ্যাডভাইজর, কটনকানেক্ট বাংলাদেশ বলেন, এ উদ্যোগ কৃষকের আয় বাড়ানো ও জীবিকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সিডিবির নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন বলেন, ‘যৌথ কাজের মাধ্যমে তুলা গবেষণা, টেকসই চর্চা ও ট্রেসেবিলিটি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে এবং এটি কৃষক ও শিল্প উভয়ের উপকারে আসবে।’

সিডিবি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সরকারি সংস্থা যা ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই প্রতিষ্ঠানটি দেশব্যাপী গবেষণা, বীজ উৎপাদন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। কটনকানেক্ট লন্ডনভিত্তিক একটি সামাজিক উদ্যোগ, যা বৈশ্বিক টেক্সটাইল সাপ্লাই চেইনে টেকসই অনুশীলন প্রসারে কাজ করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন- যদি প্রশিক্ষণ, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও প্রণোদনা কার্যকরভাবে দেয়া যায়, তবে এই অংশীদারিত্ব তুলা উৎপাদনে টেকসই রূপান্তর, কৃষকের আয়ের স্থায়িত্ব এবং দেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য উচ্চমানের কাঁচামাল নিশ্চিত করে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বাড়াতে সক্ষম হবে।