
গত মাসে একাধিক কারিগরি ত্রুটির খবর পাওয়ার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বোয়িংকে সহায়তার জন্য অনুরোধ করেছে। জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বোয়িংকে কমপক্ষে এক মাসের জন্য দুইজন প্রকৌশলী পাঠাতে বলেছে যাতে তাদের বোয়িং-অধ্যুষিত বহরের নিরাপত্তা মান মূল্যায়ন করা যায়।
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা বোয়িংকে আমাদের প্রকৌশল দলের সাথে এক মাসের জন্য কাজ করার জন্য প্রকৌশলী পাঠাতে বলেছি। আমাদের প্রকৌশল দল অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করছে, আমরা আশা করি বোয়িংয়ের প্রকৌশলীরা তাদের উৎসাহিত করবেন।”
সংস্থাটি ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা মান, জবাবদিহিতা এবং পরিচালনাগত নির্ভরযোগ্যতা জোরদার করার জন্য তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত ১ জুলাই থেকে ১৩ আগস্টের মধ্যে সংঘটিত প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করার জন্য চার সদস্যের একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি প্রতিটি ফ্লাইটের ভিত্তিতে রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড এবং পরিচালনা প্রক্রিয়া পরীক্ষা করবে, মূল কারণ চিহ্নিত করবে এবং ত্রুটি বা অবহেলার ক্ষেত্রে দায়িত্ব নির্ধারণ করবে।
তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে ঢাকা-আবুধাবি ফ্লাইটে টয়লেট ফ্লাশের ত্রুটির ঘটনাটি তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও, কর্মী ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে, দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে, একজন প্রকৌশল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং চট্টগ্রামে একজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিমান জেদ্দা, দুবাই, মদিনা, দাম্মাম, আবুধাবি ও শারজাহসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে অতিরিক্ত বিমানের চাকা মজুদের ব্যবস্থা করেছে। আরও বলা হয়েছে, সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ জোরদার করতে ১৮ আগস্ট থেকে বিশেষ রাতের রক্ষণাবেক্ষণ শিফট চালু করা হয়েছে।
বিমান সংস্থার কর্মকর্তা জানান, প্রকৌশলীদের পুনরাবৃত্ত প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে, অভ্যন্তরীণ দক্ষতা ও কারিগরি জনবল জোরদার করতে নতুন শিক্ষানবিশ মেকানিক নিয়োগ শুরু করা হয়েছে এবং বোয়িংয়ের সাথে খুচরা যন্ত্রাংশ তালিকা পুনর্মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা চলছে।
বিমানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং পরিষেবার মান সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে রাখা হয়েছে এবং প্রতিটি ঘটনার জন্য বিস্তৃত তদন্ত ও কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
তথ্যসুত্র: বাসস