
চট্টগ্রাম নগরীতে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিআরটিএ সবার সম্মিলিতভাবে কাজ করা দরকার। আর সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা এবং তা প্রতিরোধের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা করতে হবে। এসব গবেষণার ফলাফলকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলেই সড়ককে নিরাপদ করা সম্ভব।
চসিক প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান আজ বুধবার হোটেল পেনিনসুলায় ‘সড়ক নিরাপত্তায় গতি পরিমাপের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। গত ২৮ মে ২০২৫ তারিখে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) এর সহায়তায় চসিক ও জন্স হপকিন্স ইন্টারন্যাশনাল ইনজুরি রিসার্চ ইউনিট (জেএইচআই-আইআরইউ) কর্মশালাটি আয়োজন করে।
ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি’র (বিআইজিআরএস) অংশ হিসেবে জেএইচআই-আইআরইউ এবং সিআইপিআরবি ২০২২ সালের মে থেকে চসিক এলাকায় রোডসাইড অবজারভেশনাল স্টাডি পরিচালনা করছে। কর্মশালায় মে ২০২২ থেকে নভেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত ‘রোডসাইড অবজারভেশনাল স্টাডি’র ফলাফল এবং স্টাডির পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
সিআইপিআরবির রোড ট্রাফিক ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ ইউনিটের পরিচালক ডা. সেলিম মাহমুদ চৌধুরী কর্মশালাটি পরিচালনা করেন। শুরুতে তিনি নভেম্বর ২০২৪ এর ফলাফল উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরে চলাচলকারী যানবাহনের এক-তৃতীয়াংশ (৩৪%) নির্ধারিত গতিসীমা মানছে না, যা শহরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর গাড়ির চালক এবং আরোহীদের মাত্র ১৫ শতাংশ সিট-বেল্ট ব্যবহার করে। অন্যদিকে নগরীতে মোটর সাইকেল ব্যবহারকারীদের মধ্যে শতকরা ৫৬ শতাংশ সঠিকভাবে হেলমেট ব্যবহার করে।
পরবর্তীতে তিনি ‘রোডসাইড অবজারভেশনাল স্টাডি’র পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করেন। এসময় তিনি গবেষণার জন্য সড়কের পাশে নিরাপদ স্থান নির্বাচন, স্পিড ক্যামেরার ব্যবহার, যানবাহন পর্যবেক্ষণ, ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয়ে ধারণা দেন। এরপর অংশগ্রহণকারীদের সিডিএ এভিনিউ সড়কের দুইটি স্থানে স্পীড রাডার গান ব্যবহার করে হাতেকলমে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি দেখানো হয়।
কর্মশালায় রোড ক্র্যাশের ঝুঁকি কমাতে জরুরি ভিত্তিতে বিআরটিএ প্রণীত মোটরযান গতিসীমা নির্দেশিকা ২০২৪ বাস্তবায়ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এর জন্য যথোপযুক্ত আইন প্রণয়নের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
সিআইপিআরবি’র রোড সেফটি প্রকল্পের ব্যবস্থাপক কাজী বোরহান উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে চসিকের প্রকৌশলী, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এর কর্মকর্তা এবং বিআইজিআরএস এমবেডেড টিমের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।