ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

২০২৬ সালে ওয়ার্ক পারমিটের সবচেয়ে সহজ ভিসা দিচ্ছে যে ১০ দেশ

বিপ্লব হোসাইন
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ । ৮৪ জন

বিশ্বায়নের এই যুগে সীমান্ত পেরিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন এখন আর দূরবর্তী নয়। তবে বিদেশে কাজের সুযোগ পেতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ওয়ার্ক পারমিট বা কর্মভিসা প্রক্রিয়া। ২০২৬ সালে বেশ কয়েকটি দেশ দক্ষ জনশক্তি আকর্ষণের লক্ষ্যে তাদের অভিবাসন নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। সহজ আবেদন পদ্ধতি, স্বচ্ছ যোগ্যতার মানদণ্ড এবং দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের কারণে এসব দেশ আন্তর্জাতিক চাকরিপ্রার্থীদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়ার্ক ভিসা পাওয়ার সহজতা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা, সরকারি নীতি, আবেদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, প্রক্রিয়াকরণের সময় এবং বিকল্প ভিসা পথের উপর। যেসব দেশ দক্ষ কর্মী, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও দূরবর্তী পেশাজীবীদের জন্য একাধিক প্রবেশপথ তৈরি করেছে, তারা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে।

১. এস্তোনিয়া

ইউরোপের ডিজিটাল হাব হিসেবে পরিচিত এস্তোনিয়া প্রযুক্তি পেশাজীবী ও ডিজিটাল যাযাবরদের জন্য অন্যতম সহজ গন্তব্য। ই-রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম ও সহজ টাইপ ডি ভিসা স্বল্পমেয়াদি কাজের সুযোগ তৈরি করে এবং দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক পারমিটের পথ খুলে দেয়। নিবন্ধিত নিয়োগকর্তা, বৈধ চুক্তি ও স্বাস্থ্যগত সনদ থাকলেই আবেদন প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত সম্পন্ন হয়।

২. লাটভিয়া

দ্রুত ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়াকরণ এবং মাঝারি বেতনের শর্ত লাটভিয়াকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ইইউ ব্লু কার্ড স্কিমের অংশ হওয়ায় এটি দক্ষ কর্মীদের জন্য ইউরোপে প্রবেশের কার্যকর দ্বার। ইইউ নাগরিকদের জন্য প্রক্রিয়া আরও সহজ।

৩. আয়ারল্যান্ড

উচ্চ অনুমোদন হার (প্রায় ৯৫%) এবং দীর্ঘমেয়াদি পারমিট সুবিধার কারণে আয়ারল্যান্ড বৈশ্বিক প্রতিভাদের কাছে জনপ্রিয়। প্রযুক্তি, ওষুধ, শিক্ষা ও আতিথেয়তা খাতে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বয়সসীমা না থাকায় নতুন স্নাতক ও অভিজ্ঞ পেশাজীবী উভয়ের জন্য সুযোগ উন্মুক্ত।

৪. আইসল্যান্ড

উচ্চ মজুরি ও উন্নত কর্মপরিবেশের জন্য পরিচিত আইসল্যান্ড বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও শ্রম ঘাটতি পূরণের জন্য বিশেষ পারমিট প্রদান করে। নিয়োগকর্তার সঙ্গে চুক্তি থাকলে আবেদন প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ।

৫. জার্মানি

ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানি ‘সুযোগ কার্ড’ চালুর মাধ্যমে চাকরির প্রস্তাব ছাড়াই প্রবেশের সুযোগ দিয়েছে। পাশাপাশি ইইউ ব্লু কার্ড ও ফ্রিল্যান্স ভিসা দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য সুবিধাজনক পথ তৈরি করেছে। আইটি, প্রকৌশল ও স্বাস্থ্যসেবায় চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

৬. কানাডা

এক্সপ্রেস এন্ট্রি সিস্টেমের মাধ্যমে দক্ষ কর্মীদের দ্রুত স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ দেয় কানাডা। গ্লোবাল ট্যালেন্ট স্ট্রিম ও স্টার্ট-আপ ভিসা উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি খাতের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান করে। বহুসংস্কৃতির সমাজ ও উচ্চ জীবনমান দেশটিকে আরও আকর্ষণীয় করেছে।

৭. অস্ট্রেলিয়া

পয়েন্ট-ভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থায় শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও ভাষা দক্ষতার ভিত্তিতে যোগ্যতা অর্জন করা যায়। অস্থায়ী দক্ষতা ঘাটতি (TSS) ভিসা নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতায় চার বছর পর্যন্ত কাজের সুযোগ দেয়।

৮. পর্তুগাল

ডিজিটাল যাযাবর ও দূরবর্তী কর্মীদের কাছে জনপ্রিয় পর্তুগাল D7 ও টেক ভিসার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের সুযোগ দেয়। তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার খরচ ও অনুকূল আবহাওয়া দেশটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

৯. নেদারল্যান্ডস

ওরিয়েন্টেশন ইয়ার ভিসা সাম্প্রতিক স্নাতকদের এক বছরের জন্য কাজের সুযোগ দেয়। উচ্চ দক্ষ অভিবাসী ভিসা নিয়োগকর্তার সহায়তায় দ্রুত স্থানান্তর নিশ্চিত করে। প্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাত এখানে অত্যন্ত শক্তিশালী।

১০. চেকিয়া

কেন্দ্রীয় ইউরোপে অবস্থিত চেকিয়া কর্মচারী কার্ড, ইইউ ব্লু কার্ড ও ইন্ট্রা-কোম্পানি ট্রান্সফার কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কর্মীদের সুযোগ দেয়। আইসিটি, স্বাস্থ্যসেবা ও আতিথেয়তা খাতে চাহিদা বাড়ছে।

২০২৬ সালে কেন এগিয়ে এসব দেশ?

১. স্পষ্ট ও স্বচ্ছ ভিসা নীতি।

২. দ্রুত ও ডিজিটাল আবেদন ব্যবস্থা।

৩. দক্ষ কর্মী ও প্রযুক্তি খাতে উচ্চ চাহিদা।

৪. একাধিক ভিসা বিকল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের সুযোগ।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে অনেক দেশ এখন দক্ষ জনশক্তি আকর্ষণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে ২০২৬ সালে বিদেশে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য সুযোগের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে।

বিদেশে কাজের পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ ভিসা নীতি, যোগ্যতার মানদণ্ড এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।