তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় শপথ বাক্য পাঠ করান এএমএম নাসির উদ্দিন।
এবার প্রধানমন্ত্রীসহ নতুন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায়, খোলা আকাশের নিচে। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এভাবে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। দেশ-বিদেশের হাজারও অতিথি এতে অংশ নেন।
১৫ বছর পর সংসদে বিএনপি
টানা তিনটি সংসদ—অর্থাৎ প্রায় ১৫ বছর পর—বিএনপি নেতারা সংসদ ভবনে প্রবেশ করলেন। ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বয়কট এবং ২০১৮ সালে অংশ নিয়েও কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের পর এবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করছে দলটি।
বেসরকারি ফলাফল: কার দখলে কত আসন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ২৯৭টি আসনের মধ্যে:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) – ২০৯ আসন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী – ৬৮ আসন
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) – ৬ আসন
স্বতন্ত্র প্রার্থী – ৭ আসন
সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে পেয়েছে ৪৯.৯৭ শতাংশ ভোট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া জামায়াতে ইসলামী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পেয়েছে ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট। এনসিপি ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পেয়েছে ৩.০৫ শতাংশ ভোট।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল ও ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন। ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে। বাকি ২৯৭টি আসনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক উপস্থিতি
শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মোহাম্মদ মুইজ্জু, ওম বিড়লা, পাকিস্তানের প্রতিনিধি এবং সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রতিনিধিরা।
কড়া নিরাপত্তা
শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষে সংসদ ভবন ও আশপাশ এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। নির্বাচন কমিশন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও অনুলিপি পাঠায়। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), বিজিবি, র্যাব ও কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মহাপরিচালকরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
ঐতিহাসিক এ শপথের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।


