২০২৫ সালের শেষ সপ্তাহজুড়ে মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের পেকান নেনাস ইমিগ্রেশন ডিপো থেকে বিভিন্ন দেশের মোট ২৭ জন প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন বিভাগের তত্ত্বাবধানে এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
ফেরত পাঠানোদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের ১১ জন, ভারতের সাতজন, পাকিস্তানের পাঁচজন এবং নেপালের চারজন নাগরিক। সংশ্লিষ্ট সবাইকে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কেএলআইএ-১ ও কেএলআইএ-২ এর মাধ্যমে নিজ নিজ গন্তব্যে পাঠানো হয়।
৫ জানুয়ারি ২০২৬ এক বিবৃতিতে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, আটক ব্যক্তিদের বৈধ পাসপোর্ট ছিল। তবে যেসব ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিয়েছে, সেসব প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় অস্থায়ী ভ্রমণ নথি বা ‘ইমার্জেন্সি ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ ইস্যু করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় বিমান টিকিটের ব্যয় মূলত আটক ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত সঞ্চয় অথবা পরিবারের আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে বহন করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস মানবিক বিবেচনায় টিকিটের খরচ বহন করেছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্যমতে, প্রত্যাবাসীত সকল প্রবাসীকে কেন্দ্রীয় সিস্টেমে কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করা হয়েছে। নির্ধারিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, তারা ভবিষ্যতে কোনো উদ্দেশ্যেই মালয়েশিয়ায় পুনঃপ্রবেশ করতে পারবেন না।
এছাড়া আটক অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম-যেমন ভ্রমণ নথি প্রস্তুত, বিমান টিকিট ক্রয় এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা-পেকান নেনাস ইমিগ্রেশন ডিপোর নির্ধারিত সেবা কাউন্টার থেকেই সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব সেবার জন্য কোনো অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া হয়নি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে এ ধরনের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসন রোধের পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য।


