ঢাকারবিবার , ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে শুরু হলো হামের টিকাদান কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ । ৩৬ জন

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রোববার সকাল ৯টা থেকে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২৮টি এবং পৌরসভার ৩টি অস্থায়ী কেন্দ্রে একযোগে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিচে (৫৯ মাস) বয়সী শিশুদের এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। যারা ৬ মাসের নিচে এবং হামে আক্রান্ত, তাদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল প্রদান করা হবে। একটি ভায়াল থেকে ৫ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। শুরুর দিনে গোদাগাড়ী উপজেলায় ৫ হাজার ৬৫০ জন এবং পৌরসভায় ৬২৮ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, এই টিকাদান কর্মসূচি শনিবার থেকে শুরু হয়ে আগামী তিন সপ্তাহ ধরে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। পুরো কার্যক্রমে গোদাগাড়ী পৌরসভার ২৫টি কেন্দ্রে ৬ হাজার ৯৭৭ জন এবং উপজেলার ২১৭টি কেন্দ্রে ৩৬ হাজার ১৯০ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

এদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত ২৭ জন শিশুর মধ্যে ১৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ জনের হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে ৪ জন শিশু প্রেমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

রোববার সকাল ৯টায় গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা কমিউনিটি ক্লিনিকে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ঈশা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাসান এবং সিভিল সার্জন এস আই রাজিউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং পর্যায়ক্রমে সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।

অন্যদিকে, জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ঈশা হামের প্রাদুর্ভাবের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দায়ী করে মন্তব্য করেন।

সিভিল সার্জন এস আই রাজিউল ইসলাম জানান, যারা ইতিমধ্যে হামে আক্রান্ত হয়েছে, তাদের টিকা দেওয়া হবে না। তবে সুস্থ শিশুদের টিকার আওতায় আনা হবে এবং আক্রান্তদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এই টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ, তাই এটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।