যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো দেশে নগদ রেমিট্যান্স পাঠালে প্রতি ১০০ ডলারে অতিরিক্ত ১ ডলার কর দিতে হবে। নতুন এই ফেডারেল এক্সাইজ ট্যাক্স ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংক হিসাববিহীন অবৈধ অভিবাসী ও কম আয়ের প্রবাসীদের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট ২০২৫’-এর অংশ হিসেবে এই কর আরোপ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, শুধুমাত্র নগদ (ক্যাশ), মানি অর্ডার, ক্যাশিয়ার্স চেক বা অনুরূপ ফিজিক্যাল মাধ্যমে পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর এই ১ শতাংশ কর প্রযোজ্য। ব্যাংক হিসাব, ডেবিট কার্ড বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ পাঠালে অতিরিক্ত কর দিতে হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জোহাইব চৌধুরী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে সবকিছুতেই কর দিতে হয়। এবার রেমিট্যান্সেও কর বসানো হয়েছে। এটি বাংলাদেশে অর্থ পাঠাতে কিছুটা নিরুৎসাহিত করছে।”
নিউইয়র্কে একটি মানি ট্রান্সফার এজেন্ট অসীম কুমার জানান, “ব্যাংক কার্ড বা ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ পাঠালে কর দিতে হয় না। শুধু নগদ লেনদেনে অতিরিক্ত ১ শতাংশ কর দিতে হচ্ছে।”
স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেসের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ মালেক বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আইন মেনে চলতেই হবে। অতিরিক্ত করের কারণে অনেকে অবৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হতে পারেন।”
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বাংলাদেশ ছাড়াও মেক্সিকো, ভারত, ফিলিপাইনসের মতো প্রবাসী আয়-নির্ভর দেশে এই করের প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক প্রণোদনার পরিমাণ বৃদ্ধি করে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করতে পারে।
তথ্যসুত্র: প্রথম আলো


