মেক্সিকোর সরকার ২০২৬ সাল থেকে চিনিযুক্ত পানীয়ের ওপর ‘হেলথ ট্যাক্স’ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির ‘২০২৬ ইকোনমিক প্যাকেজ’-এ অন্তর্ভুক্ত প্রস্তাব অনুযায়ী, অতিরিক্ত চিনি (added sugar) থাকা পানীয়ের প্রতি লিটারে নির্দিষ্ট কর ১.৬৪ পেসো থেকে ৩.০৮ পেসোতে উন্নীত হবে, যা প্রায় দ্বিগুণ। বাংলাদেশি টাকায় এর প্রভাব আনুমানিক প্রতি লিটারে ১২-২২ টাকা সমপর্যায়ের বাড়তি কর হিসেবে ধরা হচ্ছে।
কী বদলাচ্ছে এবং কেন
নতুন করহার কার্যকর হলে শিল্পকারখানায় উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের চিনিযুক্ত পানীয়- বিশেষ করে সোডা ও ফ্লেভার্ড ড্রিংকস-এর দাম বাড়তে পারে। এই কর কনসেন্ট্রেট বা সিরাপ থেকে তৈরি পানীয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। দেশটির সরকার বলছে, চিনিযুক্ত পানীয় অসংক্রামক রোগ- বিশেষ করে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের- ঝুঁকি বাড়ায়, তাই মূল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ভোক্তার আচরণ পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
মেক্সিকোতে চিনিযুক্ত পানীয়ের ব্যবহার দীর্ঘদিন ধরেই তুলনামূলকভাবে বেশি। পাশাপাশি দেশটিতে স্থূলতা ও ডায়াবেটিস বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচিত। কর্তৃপক্ষ বলছে, দাম বাড়লে কিছু ভোক্তা কম পরিমাণে কিনতে পারেন বা বিকল্প পানীয়ের দিকে যেতে পারেন। ফলে সামগ্রিকভাবে চিনি গ্রহণ কমার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
প্রথমবার ‘নন-ক্যালোরিক’ সুইটেনারযুক্ত পানীয়ও করের আওতায়
এই উদ্যোগের আরেকটি বড় দিক হলো- প্রথমবারের মতো কিছু পানীয়, যেগুলোতে নন-ক্যালোরিক সুইটেনার আছে এবং যেগুলোকে অনেক সময় ‘স্বাস্থ্যকর বিকল্প’ হিসেবে প্রচার করা হয়, সেগুলোকেও কর ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সরকারের ধারণা, শুধু চিনিযুক্ত পানীয়ের কর বাড়ালে অনেকে কর-কম বা কর-ছাড়া বিকল্পের দিকে ঝুঁকতে পারে। এ ধরনের ‘সাবস্টিটিউশন ইফেক্ট’ কমাতেই পুরো শিল্পজাত পানীয় বাজারকে বেশি সমন্বিতভাবে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
রাজস্ব যাবে কোথায়
তামাক করের মতোই, এই কর বৃদ্ধির আয় আইনগতভাবে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিরোধমূলক কর্মসূচিতে earmark (নির্দিষ্ট খাতে বরাদ্দ) করা হচ্ছে না। তবে সরকার জানিয়েছে, বাড়তি রাজস্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামগ্রিক অর্থায়নে সহায়তা করবে। অর্থাৎ সাধারণ বাজেট কাঠামোর ভেতর থেকেই স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে।


