ঢাকাবুধবার , ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. লাইফস্টাইল

মুখের ভালো ব্যাকটেরিয়া রক্ষায় যেমন হওয়া চাই আপনার খাদ্যাভ্যাস

প্রতিবেদক
হাসান মাহমুদ
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২০ সকাল

Link Copied!

দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষায় কেবল নিয়মিত ব্রাশ করাই যথেষ্ট নয়, এর জন্য প্রয়োজন সঠিক ও সচেতন খাদ্যাভ্যাস। মানবদেহের প্রবেশদ্বার এই মুখগহ্বরে বাস করে প্রায় ৭০০ প্রজাতির বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক ও অন্যান্য অনুজীবের এক বিশাল ও জটিল সম্প্রদায়, যা ‘ওরাল মাইক্রোবায়োম’ নামে পরিচিত। অন্ত্র বা গট হেলথের মতো মুখের ভেতরের এই মাইক্রোবায়োমের স্বাস্থ্য যে দাঁত, মাড়ির সুরক্ষা এবং সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত জরুরি, তা সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

ক্ষতিকর ও উপকারী ব্যাকটেরিয়ার লড়াই:
মুখের ভেতর থাকা সব অনুজীব ক্ষতিকর নয়। কিছু ব্যাকটেরিয়া যেমন ‘স্ট্রেপ্টোককাস মিউট্যানস’ দাঁতের এনামেলে জমে থাকা শর্করাকে এসিডে রূপান্তরিত করে, যা দাঁতে ক্যাভিটি বা গর্ত সৃষ্টি করে। অন্যদিকে, ‘ভেইলনেলা’, ‘অ্যাকটিনোমাইসেস’ বা ‘এস. স্যালিভারিয়াস’-এর মতো উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলো শরীরের জন্য ‘ফ্রিডম ফাইটার’ বা স্বাধীনতা যোদ্ধার মতো কাজ করে। এগুলোর নিজস্ব অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান রয়েছে, যা ক্ষতিকর রোগজীবাণুকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে। মুখের মাইক্রোবায়োমে বৈচিত্র্য না থাকলে বা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার আধিক্য ঘটলে তা শুধু মুখেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, এমনকি ক্যানসারের মতো মারাত্মক ঝুঁকির কারণও হতে পারে।

শাকসবজি ও নাইট্রেটের জাদুকরী ভূমিকা :
ওরাল মাইক্রোবায়োমের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পালং শাক, কেল, বিটরুট এবং মুলার মতো পাতাযুক্ত সবুজ শাকসবজি খাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এই খাবারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রেট থাকে, যা মুখের ভেতরে থাকা ‘নাইসেরিয়া’ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা রূপান্তরিত হয়ে নাইট্রিক এসিডে পরিণত হয়। এই উপাদানটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে কার্ডিওভাসকুলার বা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখে। এছাড়া, রসুনে থাকা ‘অ্যালিসিন’ নামক রাসায়নিক উপাদান ক্যাভিটি ও মাড়ির রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে ধ্বংস করতে সক্ষম।

পলিফেনল ও ফলমূলের পুষ্টিগুণ :
উদ্ভিজ্জ খাবারে থাকা বিশেষ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বা পলিফেনল ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দমনে অত্যন্ত কার্যকরী। গবেষণায় দেখা গেছে, চায়ে থাকা পলিফেনল প্লাকের স্টিকনেস বা আঠালোভাব সৃষ্টিকারী এনজাইমকে বাধাগ্রস্ত করে, যা দাঁত ও মাড়ির রোগ প্রতিরোধ করে। এছাড়া, ডার্ক বেরি বা ক্র্যানবেরির জুস এবং মধু ক্যাভিটি ও পিরিয়ডন্টাল রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।

পনির ও গাঁজানো খাবারের সুফল :
চর্বিযুক্ত বা মিষ্টি খাবার এড়িয়ে পনির চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় দারুণ উপকারী। পনির চিবানোর ফলে মুখের লালার উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা মুখের অতিরিক্ত শর্করা দূর করে এবং মুখের ভেতরের অম্লীয় ভাব প্রশমিত করে। এছাড়া কেফিরের মতো ফার্মেন্টেড বা গাঁজানো খাবার ওরাল মাইক্রোবায়োমের ক্ষতিকর প্যাথোজেনগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।

যা বর্জন করা উচিত :
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো একক ‘সুপারফুড’ দিয়ে মুখের সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য রক্ষা করা সম্ভব নয়; এর জন্য সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার, প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেট, সাদা পাউরুটি, বিস্কুট এবং কেক ক্ষতিকর এসিড উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

এ কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে শাকসবজি, ফলমূল, ডাল ও আস্ত শস্যদানা সমৃদ্ধ সুষম ও ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা। নিয়মিত সঠিক খাবার গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল শরীরের পাশাপাশি মুখের ভেতরের উপকারী মাইক্রোবায়োমকে আনন্দিত ও সুস্থ রাখা সম্ভব।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন