ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

ময়মনসিংহে সবজির দামে স্বস্তি, বেড়েছে সোনালি মুরগির দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ ৩:২৮ অপরাহ্ণ । ৬৩ জন

ময়মনসিংহে সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে গড়ে ১০ টাকা কমেছে। শীতকালীন সবজিতে বাজার ভরপুর থাকায় ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে এ সময়ে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের ঐতিহ্যবাহী মেছুয়া বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বেশি। ভোর থেকেই পিকআপভর্তি সবজি বাজারে আসছে। ফলে পাইকারি দরে দাম কমে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সবজি কেনা সহজ হয়েছে।

বর্তমানে মটরশুঁটি কেজিতে ৯০ টাকা থেকে কমে ৮০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা থেকে কমে ৩০ টাকা, দেশি গাজর ৪০ টাকা থেকে কমে ৩০ টাকা, শসা ৭০ টাকা থেকে কমে ৬০ টাকা এবং করলা ১০০ টাকা থেকে কমে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি শিম, গোল বেগুন, লম্বা বেগুন, কাঁচা পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়া কেজিপ্রতি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকলা হালি ৩০ টাকা, চাল কুমড়া পিসপ্রতি ৪০ টাকা, লাউ ৭০ টাকা পিস এবং লেবু হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির দাম কমলেও বাজারে মুরগির দামে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০ টাকায় স্থিতিশীল থাকলেও সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১ হাজার ১৫০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৫০ টাকা দরে।

মাছের বাজারেও দামে ভিন্নতা দেখা গেছে। কাতলা মাছ ৩৪০ থেকে ৪৪০ টাকা, শিং ৩৪০ থেকে ৬৪০ টাকা, টাকি ৪১০ থেকে ৫৪০ টাকা, সিলভার কার্প ২১০ থেকে ২৮০ টাকা, শোল ৫৯০ থেকে ৬৪০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, মৃগেল ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫৩০ টাকা, ট্যাংরা ৫১০ থেকে ৭৮০ টাকা, রুই ৩২০ থেকে ৪২০ টাকা, কালবাউশ ৩০০ থেকে ৩৭০ টাকা, কৈ ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং পাঙাশ ১৭০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সবজি কিনতে আসা আক্কাছ মিয়া বলেন, “বর্তমানে সবজি ন্যায্য দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী কিনতে পারছেন। সারাবছর এমন দাম থাকলে আমাদের মতো ক্রেতারা স্বস্তিতে থাকব।”

সবজি বিক্রেতা সামাদ মিয়া বলেন, “ভোরে আড়তে প্রচুর সবজি আসছে। পাইকারিতে দাম কমায় খুচরা বাজারেও দাম কমেছে। আমরাও কম দামে বিক্রি করছি।”

মুরগি বিক্রেতা ফারুক হোসেন বলেন, “দাম বাড়ানোর পেছনে আমাদের কোনো কারসাজি নেই। পাইকারিতে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়েও বাড়াতে হয়েছে। পাইকারিতে দাম কমলে আমরাও কমিয়ে দেব।”

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস ছালাম বলেন, “যে কোনো পণ্যের দাম বাড়াতে হলে যৌক্তিক কারণ থাকতে হবে। সামনে রমজান মাস, এ সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই বাজারে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।”