যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংকট ঘনীভূত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত দুই দিনে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে দুজন বাংলাদেশি নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৈঠকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে পৃথকভাবে টেলিফোন করে চলমান সংকট এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দুই বাংলাদেশির মৃত্যু এবং সাতজন আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফ্লাইট পুনঃসচল হলে দ্রুততম সময়ে যাত্রীদের যাত্রা নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী, বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে সিলেটের বড়লেখার সালেহ আহমেদ একটি বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলার ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে নিহত হয়েছেন। বাহরাইনে একজন বাংলাদেশি নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। কুয়েতে চারজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।
সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। প্রবাসীদের নিরাপত্তা, ভিসা–সংক্রান্ত সহায়তা এবং নিহতদের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে আটকা পড়েছে। জাহাজের ক্রু নিরাপদে আছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব সময় পরিস্থিতি মনিটর করছে এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।


