ঢাকারবিবার , ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিশ্বে প্রতি দুই ঘণ্টায় শিশু জন্মহারে শীর্ষে ভারত, তালিকায় বাংলাদেশ ১০ম

বিপ্লব হোসাইন
ডিসেম্বর ২১, ২০২৫ ১২:০৮ অপরাহ্ণ । ৪১০ জন

পৃথিবীতে প্রতিনিয়তই যোগ হচ্ছে নতুন জীবন। সাম্প্রতিক জাতিসংঘের গড় জন্মহারের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র গত দুই ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার শিশু জন্ম নিয়েছে। এই পরিসংখ্যান বৈশ্বিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির বর্তমান চিত্র ও ভবিষ্যৎ বাস্তবতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।

তথ্য অনুযায়ী, দুই ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি শিশু জন্ম নিয়েছে ভারতে-প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন। এরপর রয়েছে চীন, যেখানে একই সময়ে জন্ম নিয়েছে প্রায় ৯০০ শিশু। তৃতীয় অবস্থানে থাকা নাইজেরিয়ায় জন্ম হয়েছে প্রায় ৬০০ শিশু। দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতেই মূলত জন্মহার তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।

এই তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। পাকিস্তানে দুই ঘণ্টায় জন্ম নিয়েছে প্রায় ৪২০ শিশু, আর ইন্দোনেশিয়ায় জন্ম হয়েছে প্রায় ৪০০ শিশুর। বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একই সময়ে জন্ম হয়েছে প্রায় ২৫০ শিশুর।

আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যেও জন্মহার তুলনামূলক বেশি। ডিআর কঙ্গোতে জন্ম নিয়েছে প্রায় ২৩০, ব্রাজিলে ১৯০, ইথিওপিয়ায় ১৮০ এবং বাংলাদেশে জন্ম নিয়েছে প্রায় ১৭০ শিশু। এছাড়া মেক্সিকোতে ১৫০, তানজানিয়ায় ১৪০, ফিলিপাইনে ১৩০, মিশরে ১২০ এবং ভিয়েতনামে ১১০ শিশু জন্ম নিয়েছে দুই ঘণ্টায়।

অন্যদিকে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে জন্মহার তুলনামূলকভাবে কম। তুরস্কে জন্ম হয়েছে প্রায় ৮০, ইরানে ৭৫, জার্মানিতে ৩০, যুক্তরাজ্যে ২৮ এবং ফ্রান্সে মাত্র ২৬ শিশুর জন্ম হয়েছে একই সময়ে।

জনসংখ্যাবিদদের মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জন্মহার বেশি হওয়ার পেছনে সামাজিক কাঠামো, কম বয়সে বিয়ে, পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সীমিত সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য বড় ভূমিকা রাখছে। বিপরীতে উন্নত দেশগুলোতে দেরিতে বিয়ে, কম সন্তান নেওয়ার প্রবণতা ও উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় জন্মহার কমিয়ে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জন্মহার ভবিষ্যতে বিশ্বকে যেমন মানবসম্পদের সম্ভাবনা দেবে, তেমনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জও তৈরি করবে। তাই জন্মের সংখ্যার পাশাপাশি প্রতিটি শিশুর সুস্থ বেড়ে ওঠা ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।