ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

প্রি-ডায়াবেটিস মানেই স্বস্তি নয়, এখনই সতর্ক না হলে বাড়তে পারে ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ ৩:৫২ অপরাহ্ণ । ৫৩ জন

রক্ত পরীক্ষায় ফাস্টিং সুগার স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি এলেও অনেক সময় চিকিৎসক জানান-এখনো ডায়াবেটিস হয়নি, বরং এটি প্রি-ডায়াবেটিস। এমন কথা শুনে কেউ কেউ স্বস্তি পেলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ প্রি-ডায়াবেটিস নিজেই একটি স্পষ্ট সতর্ক সংকেত।

প্রি-ডায়াবেটিস এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যেখানে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলেও ডায়াবেটিস হিসেবে নির্ণয়ের পর্যায়ে পৌঁছায় না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, ফাস্টিং ব্লাড সুগার ১০০ থেকে ১২৫ মিলিগ্রাম প্রতি ডেসিলিটার বা এইচবিএ১সি ৫ দশমিক ৭ থেকে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ হলে তাকে প্রি-ডায়াবেটিস ধরা হয়।

আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন জানায়, এই পর্যায়ে শরীর ধীরে ধীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের দিকে এগোতে শুরু করে। যথাসময়ে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন না আনলে পরবর্তী ধাপে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রি-ডায়াবেটিসের পেছনে প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, বংশগত ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, আধুনিক জীবনযাপন পদ্ধতিই এই সমস্যার অন্যতম বড় কারণ।

এই অবস্থার বড় চ্যালেঞ্জ হলো-এতে সাধারণত কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে অনেকেই বুঝতে পারেন না যে তারা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা ধীরে ধীরে ওজন বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যেতে পারে।

তবে আশার কথা হলো, প্রি-ডায়াবেটিস অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং অনেক সময় পুরোপুরি রিভার্স করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, শরীরের ওজন ৫ থেকে ৭ শতাংশ কমানো এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে ডায়াবেটিসে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, এই পর্যায়ে জীবনযাপনে পরিবর্তন আনলে অনেক ক্ষেত্রেই ওষুধ ছাড়াই রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সব মিলিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ-প্রি-ডায়াবেটিসকে ভয় নয়, বরং সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। সময়মতো সচেতন হলে এই পর্যায় থেকেই ডায়াবেটিসকে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সূত্র: আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন (ADA), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC)