কিশোরগঞ্জের ভৈরব শহরে দ্রুত বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। প্রতিদিন গড়ে অর্ধশতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু আক্রান্ত হচ্ছেন এডিস মশাবাহিত এই জ্বরে। আক্রান্তদের মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে।
ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাজিয়া খাতুন জানান, তার চার ছেলেমেয়ে, নাতি ও তিনি নিজে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অসুস্থ সবার সেবা করার মতো সুস্থ কেউ না থাকায় আজ সবাই বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, “এখন আমাদের পরিবারে কেউই পুরোপুরি সুস্থ নেই। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সবাই বাসায় গিয়ে একসঙ্গে থাকবো, যেন একজন আরেকজনকে সেবা করতে পারি।”
রোববার (৯ নভেম্বর) সকালে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা ওয়ার্ডে রাজিয়া খাতুনের সঙ্গে কথা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এরই মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। রোগীরা অভিযোগ করেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের তেমন কার্যক্রম চোখে পড়ছে না এবং হাসপাতালেও পর্যাপ্ত সেবা মিলছে না।
ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্বাস মিয়া বলেন, তার মেয়ে সুমি বেগম ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, কিন্তু চিকিৎসকের দেখা মেলেনি।
তিনি অভিযোগ করেন, “নার্সরা শুধু স্যালাইন আর নাপা দিচ্ছেন। মেয়ের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। আজ সকালে বলা হয়েছে, মেয়েকে কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এভাবে যদি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা হয়, তাহলে আমরা গরিব মানুষ কোথায় যাবো?”
হাসপাতাল সূত্র জানায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার দুই থেকে তিনগুণ বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা দুটি ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. আবদুল করিম বলেন, “এবার ডেঙ্গু আক্রান্তের হার অনেক বেশি। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। আমরা সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
অন্যদিকে, ভৈরব পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শবনম শারমিন জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রতিদিনই পৌর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে সচেতনতা কার্যক্রম চলছে। জনগণকে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।”
চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন, আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে, ঘরের আশেপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখতে এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে।


