ঢাকাশুক্রবার , ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • অন্যান্য

তেল–পেঁয়াজে আগুন, সবজিতে স্বস্তির হাওয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিসেম্বর ১২, ২০২৫ ১২:৩৯ অপরাহ্ণ । ২৩৯ জন

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আবারও চাপ বেড়েছে ভোক্তাদের ওপর। বিশেষ করে পেঁয়াজ ও সয়াবিন তেলের মূল্যবৃদ্ধি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। যদিও সবজি ও ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে, তবুও সামগ্রিকভাবে এখনো বাজার অনেকের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর ও সেগুনবাগিচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতের সবজির সরবরাহ বেড়ে কিছু পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, শীত আরও বাড়লে সবজির দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্তমানে অনেক সবজির দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

এদিকে ভোজ্যতেলের বাজারেও বেড়েছে চাপ। তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ৭ ডিসেম্বর থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৬ টাকা বাড়িয়েছে। ফলে এক লিটারের দাম দাঁড়িয়েছে ১৯৫ টাকা এবং ৫ লিটারের দাম ৯৫৫ টাকা। এতে ভোক্তাদের দৈনন্দিন ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও বাজারে স্থিতিশীল হয়নি। ১৫০ টাকার পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ কেজিতে ১১০–১২০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও পুরোনো পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৩০–১৪০ টাকায়। বিক্রেতাদের দাবি, নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কিছুটা কমতে পারে।

বাজারে নতুন আলুর আগমন ঘটলেও দাম এখনও বেশি। নতুন সাদা আলু কেজিতে ৪০–৫০ টাকা এবং নতুন লাল আলুর দাম প্রায় ৭০ টাকা। কয়েক দিন আগেও এসব আলুর দাম ছিল ১০০ টাকার ওপরে। সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে দাম কমেছে। তবে পুরোনো আলু তুলনামূলক সস্তা—কেজিতে ২০–২৫ টাকা।

ডিম ও মুরগির বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে ডিমের দাম কমার ধারায় আছে। ফার্মের এক ডজন ডিম এখন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ১৪০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি ২৭০–৩০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে বাজারে শীতের সবজি স্বস্তি দিলেও পেঁয়াজ ও তেলের বাড়তি দাম ভোক্তাদের কষ্ট বাড়িয়ে দিয়েছে। বিক্রেতারা আশা করছেন, মাসের শেষে সরবরাহ আরও বৃদ্ধি পেলে কিছু পণ্যের দাম কমে বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে।