ঢাকাসোমবার , ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

এলিয়েনের বার্তা কি এসেছে পৃথিবীতে? রহস্যময় সংকেতে তোলপাড়!

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ১৯, ২০২৬ ১:২২ অপরাহ্ণ । ১৫৬ জন

মহাবিশ্বে মানবজাতি কি একা, নাকি আমাদের মতো বুদ্ধিমান কোনো প্রাণী অন্য কোনো গ্রহে বসবাস করছে-এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানীরা কয়েক দশক ধরে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এবার সেই দীর্ঘ অনুসন্ধানে বড় কোনো সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বিজ্ঞানীরা। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দাবি, মহাকাশ থেকে পাওয়া প্রায় ১২ বিলিয়ন (১ হাজার ২০০ কোটি) রেডিও সংকেত বিশ্লেষণের কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এসব সংকেতের মধ্যেই ভিনগ্রহী বা এলিয়েনদের পাঠানো কোনো সুনির্দিষ্ট বার্তা লুকিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভিনগ্রহী প্রাণের অস্তিত্ব অনুসন্ধানে ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করে ‘সেটি অ্যাট হোম’ (SETI@Home) নামের একটি ক্রাউড-সোর্সড গবেষণা প্রকল্প। পুয়ের্তো রিকোর বিশ্বখ্যাত আরেসিবো অবজারভেটরির বিশাল রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে প্রায় ২১ বছর ধরে মহাকাশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রেডিও সংকেত সংগ্রহ করা হয়। যদিও ২০২০ সালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আরেসিবো টেলিস্কোপটি বন্ধ হয়ে যায়, তবে এর আগে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ তথ্য বিজ্ঞানীদের হাতে সংরক্ষিত রয়েছে।

ইউসি বার্কলের বিজ্ঞানী ডেভিড অ্যান্ডারসন জানান, এই ১২ বিলিয়ন সংকেত মহাকাশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয়েছে। সংকেতগুলো মূলত নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের শক্তিশালী তরঙ্গ, যা বিশেষভাবে হাইড্রোজেন গ্যাসের ২১ সেন্টিমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কাছাকাছি। এসব সংকেত বিশ্লেষণে বিশ্বের লাখ লাখ স্বেচ্ছাসেবক তাদের ব্যক্তিগত কম্পিউটারের প্রসেসিং ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন।

দীর্ঘ ২১ বছরের গবেষণা ও বিশ্লেষণের পর বিজ্ঞানীরা সম্ভাব্য সংকেতের তালিকা কমিয়ে এনেছেন মাত্র ১০০টিতে। গবেষকদের ভাষায়, এই ১০০টি সংকেত সাধারণ মহাজাগতিক শব্দের তুলনায় ব্যতিক্রমী এবং কৃত্রিম উৎস থেকে আসার সম্ভাবনাও তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে এই সংকেতগুলো আরও গভীরভাবে যাচাই করতে চীনের অত্যাধুনিক ও শক্তিশালী ‘ফাস্ট’ (FAST) রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করা হচ্ছে।

গবেষণার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে প্রাকৃতিক মহাজাগতিক শব্দ এবং মানুষের তৈরি রেডিও হস্তক্ষেপের ভিড় থেকে প্রকৃত ভিনগ্রহী সংকেত আলাদা করা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যদি এই ১০০টি সংকেতের মধ্য থেকে একটিও নিশ্চিতভাবে ভিনগ্রহী বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ হিসেবে শনাক্ত করা যায়, তবে তা হবে মানব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার।

গবেষকরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই হয়তো জানা যাবে-মহাবিশ্বের কোনো এক প্রান্ত থেকে আমাদের উদ্দেশে সত্যিই কোনো বার্তা পাঠানো হয়েছে কি না।