ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের যৌথ ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ ১২:৫৪ অপরাহ্ণ । ৫১ জন

দেশে স্বাস্থ্য উন্নয়নে একাধিক আইন ও নীতি প্রণয়ন করা হলেও সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে-এমন মন্তব্য করে অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) প্রতিরোধে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা নতুন নির্বাচিত সরকারের প্রতি ৩৫টি মন্ত্রণালয়ের স্বাক্ষরিত “যৌথ ঘোষণাপত্র” দ্রুত বাস্তবায়ন এবং একটি পৃথক ও স্বাধীন “হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন” প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত অনলাইন কনফারেন্স ‘শক্তিশালী অর্থনীতি, শক্তিশালী সমাজ: জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে হেলথ প্রমোশনের ভূমিকা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। মূল আয়োজক ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টসহ অংশগ্রহণকারী ২২টি প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে এই আহ্বান জানায়।

বক্তারা বলেন, ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা ব্যয় জাতীয় উন্নয়নের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধুমাত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একক প্রচেষ্টায় এ সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। জনস্বাস্থ্য উন্নয়নকে জাতীয় নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এনে সচেতনতা-ভিত্তিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তারা আরও উল্লেখ করেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় ও সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে। পুঁজিবাদী ভোগবাদী সংস্কৃতির প্রভাবে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচার বাড়ছে, যা অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

কনফারেন্সে বক্তারা একটি স্বাধীন “হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন” গঠনের ওপর জোর দেন। তাদের মতে, এই প্রতিষ্ঠান গবেষণা, নীতি প্রণয়ন, অ্যাডভোকেসি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তামাক, কোমল পানীয়, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের ওপর আরোপিত সারচার্জ বা কর থেকে প্রাপ্ত অর্থ জনস্বাস্থ্য উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে ব্যয় করার প্রস্তাবও উঠে আসে।

বক্তারা বলেন, নগর পরিকল্পনায় হাঁটা ও সাইকেলবান্ধব অবকাঠামো, পার্ক, মাঠ ও জলাশয় সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি বায়ু ও শব্দদূষণ, তামাক ব্যবহার ও অস্বাস্থ্যকর খাবার নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। প্রমাণভিত্তিক ডকুমেন্ট প্রস্তুত, নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক আন্দোলন জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

শিশু, নারী, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ গণপরিসর নিশ্চিত করা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

কনফারেন্সে দেশের প্রায় ৫০ জন খ্যাতনামা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও সমাজকর্মী বক্তব্য দেন। শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীসহ প্রায় ৩০০ জন অংশগ্রহণকারী অনলাইনে যুক্ত ছিলেন। উদ্বোধনী ও সমাপনী প্ল্যানারি সেশনসহ সমান্তরাল সেশনে মোট ৮টি বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের ফেসবুক পেইজে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

কনফারেন্সে সহ-আয়োজক হিসেবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর মধ্যে রয়েছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্স, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি, টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেল, প্রজ্ঞা, আর্ক ফাউন্ডেশন, ডাস, এইড ফাউন্ডেশন, সিএলপিএ ট্রাস্টসহ আরও বিভিন্ন সামাজিক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার জনস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি স্বাস্থ্যবান ও উৎপাদনশীল সমাজ গড়ে তুলবে।