ঢাকাসোমবার , ২৩ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

২০২৬ সালের শীর্ষ ৬ অস্ত্র আমদানিকারক দেশ!

বিপ্লব হোসাইন
মার্চ ২৩, ২০২৬ ৭:১০ পূর্বাহ্ণ । ১০ জন

বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং একাধিক অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাবে ২০২৬ সালে সামরিক প্রস্তুতির এক নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখতে বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো সমরাস্ত্র ক্রয়ে রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগ করছে। বিশেষ করে ইউরোপ এবং এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অস্ত্র আমদানির এই প্রতিযোগিতা বৈশ্বিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

চলুন দেখে নেওয়া যাক, ২০২৬ সালে বিশ্বের সামরিক খতিয়ানে কোন ৬টি দেশ অস্ত্র আমদানিতে সবার চেয়ে এগিয়ে।

১. ইউক্রেন (১২%)
২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী অস্ত্র আমদানির তালিকার শীর্ষে রয়েছে ইউক্রেন। মোট বৈশ্বিক আমদানির ১২ শতাংশই এই দেশটির দখলে। রাশিয়ার সাথে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে ইউক্রেন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন এবং কামানের মতো ভারী সমরাস্ত্র তাদের জাতীয় নিরাপত্তার প্রধান অগ্রাধিকার।

২. ভারত (৬.৯%)
দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক ভারসাম্য রক্ষায় ভারত তার শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। বৈশ্বিক আমদানির ৬.৯ শতাংশ নিয়ে দেশটি তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যেই ভারত বড় ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ে মনোযোগ দিচ্ছে।

৩. সৌদি আরব (৬.৮%)
পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বিশেষ করে ইরানের সাথে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে বিপুল বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। ২০২৬ সালে ৬.৮ শতাংশ বৈশ্বিক আমদানির অংশীদার হয়ে দেশটি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। তাদের কৌশলগত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় উন্নত যুদ্ধবিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

৪. কাতার (৬.০%)
উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে কাতার প্রতিরক্ষা খাতে অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশটি তার সামরিক সক্ষমতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি করেছে। এ বছর ৬.০ শতাংশ অস্ত্র আমদানির মাধ্যমে তারা চতুর্থ শীর্ষ আমদানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে।

৫. পাকিস্তান (৪.৩%)
আফগানিস্তানের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে পাকিস্তান তার প্রতিরক্ষা খাতকে সক্রিয় রেখেছে। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক অস্ত্র আমদানির ৪.৩ শতাংশ পাকিস্তানের দখলে। দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত সামরিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের অবস্থান সংহত রাখাই দেশটির মূল লক্ষ্য।

৬. পোল্যান্ড
তালিকায় পরবর্তী উল্লেখযোগ্য দেশ হিসেবে উঠে এসেছে পোল্যান্ড। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে পূর্ব ইউরোপের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় পোল্যান্ড নজিরবিহীনভাবে সামরিক সরঞ্জাম কিনছে। ইউরোপের বৃহত্তর প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ হিসেবে পোল্যান্ডের এই সামরিক ব্যয় বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

২০২৬ সালের এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক আলোচনার চেয়ে সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে অস্ত্রের এই বিশাল মজুদ দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।