
রাজধানীর যানজট নিরসনে অন্যতম বড় প্রকল্প হিসেবে চালু হওয়া মেট্রোরেল ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ২৪৪ কোটি টাকা আয় করেছে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আগের বছরের তুলনায় আয় বেড়েছে প্রায় ১০ গুণ।
২০২২-২৩ অর্থবছরে যেখানে আংশিক চালু মেট্রোরেল মাত্র ২২ কোটি টাকার বেশি আয় করেছিল, সেখানে পুরো লাইন চালু থাকায় এবছর এই পরিমাণ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
যাত্রা ও পরিকাঠামো
ডিএমটিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত লাইন-৬ নামে পরিচিত এই রুটে বর্তমানে ২৪ সেট মেট্রো ট্রেন রয়েছে। প্রতিটি ট্রেনে ছয়টি বগি এবং এই পথে রয়েছে ১৬টি স্টেশন, যার মধ্যে মিরপুর-১০ সবচেয়ে বেশি যাত্রীসংবলিত স্টেশন হিসেবে পরিচিত।
সবচেয়ে ব্যস্ত ও কম ব্যবহার হওয়া স্টেশন
সবচেয়ে বেশি যাত্রী: মিরপুর-১০, বইমেলার মাস (ফেব্রুয়ারি) ছিল রেকর্ড যাত্রীর সময়
এক কোটির বেশি যাত্রী: উত্তরা উত্তর, মতিঝিল, আগারগাঁও, কারওয়ান বাজার, বাংলাদেশ সচিবালয়
কম যাত্রী: উত্তরা দক্ষিণ ও বিজয় সরণি স্টেশন
চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত (২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত) ১৫ কোটি ৭৫ লাখ যাত্রী মেট্রোরেলে যাতায়াত করেছে। ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর দেশের প্রথম মেট্রোরেল যাত্রা শুরু করে এবং ২০২৩ সালের শেষ দিনে সব স্টেশনে যাত্রী ওঠানামার অনুমতি দেওয়া হয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ
ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ জানান, ভবিষ্যতে ট্রেন চলাচলের সময় ও ফ্রিকোয়েন্সি আরও বাড়ানো হবে। তবে তিনি স্বীকার করেন, লোকবল সংকটের কারণে এখনো রাতে মেট্রো চালু করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “মেট্রোরেলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। আমরা আরো ঘন ঘন সার্ভিস চালুর দিকে কাজ করছি। যাত্রীও বাড়বে, আয়ও বাড়বে।”