ঢাকাশনিবার , ৩০ মে ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. লাইফস্টাইল

মার্কিন ডলার বনাম ভারতীয় রুপি: পনেরো বছরের যাত্রা

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ

Link Copied!

American one hundred dollar bill and Indian paper currency banknote a backgrounds.

মুদ্রা বিনিময় হার কেবল অর্থনীতির শুষ্ক পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি একটি দেশের আর্থিক স্বাস্থ্য, বৈদেশিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক অবস্থানের প্রতিচ্ছবি। গত দেড় দশকে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মানের যে ধীরে ধীরে অবমূল্যায়ন ঘটেছে, তা ভারতের অর্থনৈতিক যাত্রাপথের নানা জটিল দিককে সামনে এনেছে। ২০১০ সালে যেখানে এক ডলার সমান ছিল মাত্র ৪৫.৭০ রুপি, সেখানে ২০২৫ সালে এসে সেই হার দাঁড়িয়েছে ৮৮.৪২ রুপিতে। এই দীর্ঘ সময়ের ওঠানামা শুধু সংখ্যার পরিবর্তন নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও ভারতের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার এক সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রুপির অবমূল্যায়ন তুলনামূলক ধীরগতির ছিল। তবে ২০১২ সালে হঠাৎ করে রুপির মান নেমে আসে ৫৩.৪০ এ, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা এবং বিদেশি বিনিয়োগে অনিশ্চয়তার প্রতিফলন। ২০১৩ সালে এটি আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৫৮.৫৫ এ। এই সময় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ভারতের জন্য বড় চাপের কারণ, কারণ ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ। তেলের দামের উত্থান-পতনের সঙ্গে রুপির মানও ওঠানামা করতে থাকে।

২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে রুপির ধারাবাহিক দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়। ২০১৪ সালে এক ডলার সমান ছিল ৬০.৯৯ রুপি, যা ২০১৬ সালে গিয়ে দাঁড়ায় ৬৭.১৭ তে। এই সময় ভারতের অর্থনীতি তুলনামূলক স্থিতিশীল হলেও বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে ডলারের প্রভাব বাড়তে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী ডলার নীতির কারণে উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর মুদ্রা দুর্বল হয়ে পড়ে। ভারতও এই ধাক্কার বাইরে থাকতে পারেনি।

তবে ২০১৭ সালে রুপির মান সামান্য ঘুরে দাঁড়ায়, এক ডলার সমান হয় ৬৫.০৯ রুপি। এটি মূলত বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে স্থিতিশীলতার ফল। কিন্তু সেই স্বস্তি স্থায়ী হয়নি। ২০১৮ সালে বিনিময় হার বেড়ে দাঁড়ায় ৬৮.৪১ এ এবং ২০১৯ সালে এটি পৌঁছে যায় ৭০.৪০ এ। এর পেছনে আবারও তেলের দাম, বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধ এবং ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতির প্রভাব ছিল।

২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারী বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তোলে। এই সময়ে ভারতীয় রুপি আরও দুর্বল হয়ে এক ডলার সমান দাঁড়ায় ৭৪.১৩ রুপি। তবে ২০২১ সালে সামান্য ঘুরে দাঁড়ালেও (৭৩.৯৩) দীর্ঘমেয়াদে রুপির ওপর চাপ কমেনি। ২০২২ সালে এটি হঠাৎ বেড়ে দাঁড়ায় ৭৮.৬০, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব।

২০২৩ এবং ২০২৪ সালে রুপির অবমূল্যায়ন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এক ডলার সমান যথাক্রমে ৮২.৫৭ ও ৮৩.৩০ রুপি হয়। ভারতের আমদানি ব্যয় এবং চলতি হিসাবের ঘাটতি এই সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। অবশেষে ২০২৫ সালে এসে রুপি রেকর্ড দুর্বলতায় পৌঁছে, এক ডলারের বিপরীতে ৮৮.৪২ রুপি হয়ে যায়। এটি ভারতের জন্য এক বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, কারণ ডলারের বিপরীতে রুপির অবমূল্যায়ন মানে আমদানি খরচ বাড়া, বৈদেশিক ঋণের চাপ বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতি তীব্র হওয়া।

সব মিলিয়ে, ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে রুপির এই যাত্রা স্পষ্ট করে দেয় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ডলারের প্রভাব কতটা গভীর এবং উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মুদ্রা কতটা ভঙ্গুর। ভারতের জন্য এটি একদিকে যেমন চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে নীতি নির্ধারকদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা—স্বনির্ভর উৎপাদন ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর নির্ভরশীলতা কমানো ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে রুপিকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয়।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

লঘুচাপের প্রভাবে ৫ দিনজুড়ে বৃষ্টি-ঝড়ের আভাস

রবি এলিট প্রোগ্রামে আরও ১৬ ব্র্যান্ড, মিলবে ৫২% পর্যন্ত ছাড়

With 16 New Brands, Robi Elite Offers Up To 52% Discount

অপো এ সিরিজকে নম্বর ১ স্মুথনেস, ব্যাটারি লাইফ ও ডিউরেবিলিটির স্বীকৃতি দিলো বুয়েট

Universal Birth-Death Registration Accelerates SDGs

শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এসডিজি অর্জনে সহায়ক

ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপ চালু হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

প্রকৃতি ও জীব-বৈচিত্র্য বেঁচে থাকলে আমরাও বাঁচব- জীব-বৈচিত্র্য দিবসে বক্তারা

Apex Footwear introduces ‘Buy Online, Pick-up in Store’ (BOPIS) service ahead of Eid ul-Azha

ঈদে ক্রেতাদের সুবিধায় ‘এক্সপ্রেস ডেলিভারি’ ও ‘পিকআপ’ সেবা চালু করল এপেক্স

Recommendation to ban unfit Motor vehicles for safe Eid travel

নিরাপদ ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধের সুপারিশ