ঢাকাসোমবার , ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

ভিটামিন-ডি ঘাটতির কারণ ও ঝুঁকি নিয়ে যা বললেন অধ্যাপক তাহমিদ আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২৬, ২০২৬ ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ । ১৫২ জন

দেশে ব্যাপকভাবে ভিটামিন-ডি ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, যার পেছনে খাদ্যাভ্যাস, বয়স, সূর্যের আলো ব্যবহারের ধরন এবং ত্বকের গঠনসহ একাধিক কারণ দায়ী। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ও খ্যাতনামা পুষ্টিবিদ অধ্যাপক তাহমিদ আহমেদ তাঁর গবেষণার প্রেক্ষাপটে ভিটামিন-ডি ঘাটতি নিয়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন।

অধ্যাপক তাহমিদ আহমেদ জানান, গবেষণায় দেখা গেছে-যাদের শরীরে ভিটামিন-ডি পর্যাপ্ত রয়েছে এবং যাদের ঘাটতি রয়েছে, তাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে খুব বেশি পার্থক্য নেই। তবে সমস্যাটি হলো, একজন মানুষের শরীরে দৈনিক কমপক্ষে ৬০০ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট (IU) ভিটামিন-ডি প্রয়োজন হলেও বাস্তবে অধিকাংশ মানুষ এর চেয়ে অনেক কম পরিমাণ ভিটামিন গ্রহণ করছেন।

তিনি আরও বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে ভিটামিন-ডি ঘাটতির ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে প্রবীণদের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি বেশি লক্ষ্য করা যায়। শিশুদের বিষয়ে তিনি জানান, যারা মায়ের বুকের দুধ পান করে, তাদের মধ্যে ভিটামিন-ডি ঘাটতির হার তুলনামূলকভাবে কম। তবে এর জন্য মায়ের শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন-ডি থাকা অত্যন্ত জরুরি। মায়ের শরীরে ঘাটতি থাকলে শিশুও প্রয়োজনীয় ভিটামিন পায় না।

সূর্যের আলো ব্যবহারের বিষয়ে অধ্যাপক তাহমিদ আহমেদ বলেন, ভিটামিন-ডি তৈরির জন্য সঠিক সময়ে ও সঠিক পদ্ধতিতে সূর্যের আলো গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত সময় সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সবচেয়ে কার্যকর থাকে। এই সময় অন্তত ১৫ মিনিট হাত, পা ও মুখ সরাসরি সূর্যের আলোতে উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন। পুরো শরীর কাপড়ে ঢাকা থাকলে ভিটামিন-ডি উৎপাদন সম্ভব হয় না।

বাংলাদেশিদের ত্বকের বর্ণ নিয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, বাঙালিদের ত্বক সাধারণত শ্যামবর্ণ বা কালো হয়ে থাকে, যার কারণ ত্বকে থাকা মেলানিন। এই মেলানিন ত্বকে অতিবেগুনি রশ্মি ঢুকতে বাধা দেয়, ফলে স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়। এ কারণেই ইউরোপ বা আমেরিকার তুলনায় বাংলাদেশে স্কিন ক্যান্সারের হার অনেক কম।

তবে একই সঙ্গে এই মেলানিনই ভিটামিন-ডি তৈরির ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। মেলানিনের কারণে সূর্যের আলো ত্বকের নিচে কোলেস্টেরলের ওপর ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, ফলে শরীরে ভিটামিন-ডি উৎপাদন তুলনামূলকভাবে কঠিন হয়ে পড়ে।

অধ্যাপক তাহমিদ আহমেদ মনে করেন, ভিটামিন-ডি ঘাটতি রোধে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি সূর্যের আলো ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিপূরক ভিটামিন গ্রহণের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।