ঢাকামঙ্গলবার , ৬ অক্টোবর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জীবন বীমা ও ব্যাংক

বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন পরাশক্তিদের উত্থানের আভাস

প্রতিবেদক
হাসান মাহমুদ
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৫ সকাল

Link Copied!

আসন্ন দশকগুলোতে বিশ্ব অর্থনীতিতে বিরাট পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির মোট আকার ছাড়িয়ে যাবে ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার। মূলত এশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল বাজার এবং উদীয়মান অর্থনীতির হাত ধরেই এই মাইলফলক অর্জিত হতে চলেছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

আইএমএফের প্রাক্কলন বলছে, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের এই চার বছরে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রায় ২৫ ট্রিলিয়ন ডলার নতুন করে যুক্ত হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের শীর্ষে অবস্থান বজায় রাখবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। ২০৩০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩৭.৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যা মোট বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ২৫.১ শতাংশ। অন্যদিকে, ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার জিডিপি নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে চীন, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির ১৭.৩ শতাংশ দখল করে রাখবে।

তালিকায় সবচেয়ে রোমাঞ্চকর লড়াইটি হতে যাচ্ছে তৃতীয় স্থানটি নিয়ে। বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে জার্মানি এবং ভারতকে প্রায় একই বিন্দুতে দেখা যাবে। জার্মানির সম্ভাব্য জিডিপি ৬.১৭৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বিপরীতে ভারতের জিডিপি ধরা হয়েছে ৬.১৭৩ ট্রিলিয়ন ডলার—মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবধানে দুই দেশ প্রায় সমান্তরালে অবস্থান করছে। ক্রয়ক্ষমতার সমতা (পিপিপি) বা পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটির হিসাবে ভারতের অর্থনীতি ইতিমধ্যে জার্মানির চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে থাকলেও নামমাত্র (নমিনাল) জিডিপিতেও জার্মানির ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে দেশটি।

তালিকায় এর পরেই রয়েছে যুক্তরাজ্য (৫.১ ট্রিলিয়ন ডলার), জাপান (৫ ট্রিলিয়ন ডলার), ফ্রান্স (৪ ট্রিলিয়ন ডলার), ব্রাজিল (৩.২ ট্রিলিয়ন ডলার), ইতালি (৩ ট্রিলিয়ন ডলার) এবং কানাডা (৩ ট্রিলিয়ন ডলার)। দীর্ঘ সময় ধরে অর্থনৈতিক স্থবিরতায় ভোগা জাপান একসময়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি থাকলেও ২০৩০ সালের মধ্যে তা আরও পেছনে পড়ে যাওয়ার আভাস মিলছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য দ্রুত পশ্চিমা বিশ্ব থেকে এশিয়ার দিকে স্থানান্তরিত হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে কেবল এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য মিলেই প্রায় ৫৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক উৎপাদন করবে, যা মোট বিশ্ব অর্থনীতির এক-তৃতীয়াংশের বেশি। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিত জিডিপি দাঁড়াবে প্রায় ২৬.৫ ট্রিলিয়নে।

সব মিলিয়ে, ২০৩০ সালের এই ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশ্ব অর্থনীতি কেবল টাকার অঙ্কের বৃদ্ধিই নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মানচিত্রে নতুন নতুন পরাশক্তির উত্থান এবং ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু বদলের এক সুদূরপ্রসারী বার্তা দিচ্ছে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

উপকূলের ১৪ জেলায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬: কতটা নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা?

পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস যৌথভাবে কাজ করবে

কোম্পানির হস্তক্ষেপ তামাক নিয়ন্ত্রণের বড় বাঁধা

realme C100 Set to Bring All-round Durable Champion 8000mAh Titan Battery

অলরাউন্ড ডিউরেবল চ্যাম্পিয়ন ৮,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার টাইটান ব্যাটারি নিয়ে আসছে রিয়েলমি সি১০০

মানিকগঞ্জে বাসচাপায় তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি নিহত

আজ বিশ্ব বসতি দিবস

বৃষ্টির পর তেঁতুলিয়ায় শীতের আমেজ, তাপমাত্রা নামল ২০ ডিগ্রিতে

হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৩ মৃত্যু

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ২ হাজার ৮৯

সরকারি হাসপাতাল তদারকিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৫৪ কর্মকর্তা