
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চরাঞ্চলের জীবন এবং মাটির কাছাকাছি মানুষের গল্প, এইসব নিয়েই বছরের পর বছর কাজ করে যাচ্ছেন দুই ড্রোন কনটেন্ট ক্রিয়েটর নাজমুল হোসাইন (লাবু) এবং মোঃ সুমন শেখ, যিনি “সুমন দ্যা কাইট” নামে পরিচিত। তাদের এই নিরবচ্ছিন্ন যাত্রায় যুক্ত হলো এক ঐতিহাসিক মাইলফলক, বিশ্বখ্যাত ড্রোন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডিজেআই গ্লোবাল-এর সঙ্গে কোলাবোরেশন।
সম্প্রতি নাজমুল হোসাইনের ব্যক্তিগত ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রাম প্ল্যাটফর্ম থেকে একটি ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর ডিজেআই-এর মার্কেটিং টিম থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং পরবর্তীতে এই কোলাবোরেশন সম্পন্ন হয়। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে ডিজেআই গ্লোবাল এভাবে কোলাবোরেশন করেছে।
কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় বেড়ে ওঠা নাজমুল হোসাইন (লাবু) দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের প্রকৃতির খুব কাছ থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। চরাঞ্চলের জীবন, নদী, প্রকৃতি এবং মানুষের সহজ-সরল বাস্তবতাকে তিনি তার ক্যামেরায় তুলে ধরেন। অন্যদিকে, রাজবাড়ীর বাসিন্দা মোঃ সুমন শেখ (সুমন দ্যা কাইট) ড্রোন কনটেন্ট তৈরিতে নিজের স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।
এই দুই নির্মাতা একসাথে সম্প্রতি একটি ট্যুরে গিয়ে কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভিডিওটি ধারণ করেন। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য এবং বাস্তব মুহূর্তের মিশেলে তৈরি এই কনটেন্টই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে তাদের জায়গা করে দেয়।
এই বৈশ্বিক স্বীকৃতি প্রসঙ্গে নাজমুল হোসাইন (লাবু) বলেন, “এটা সত্যিই আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমি কখনোই টাকার জন্য কাজ করিনি। প্রকৃতি আমাকে টানে, প্রকৃতির মধ্যে হারিয়ে যেতে পারলেই আমি শান্তি পাই। সেই ভালো লাগা থেকেই মুহূর্তগুলো ক্যামেরায় ধরার চেষ্টা করি। অনেকেই ভাবে হয়তো এই কাজ থেকে অনেক আয় করি, কিন্তু বাস্তবে কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে আমার তেমন কোনো আয় নেই।”
মোঃ সুমন শেখ বলেন, “আমাদের জন্য এটা সত্যিই অনেক বড় একটা অভিজ্ঞতা। আমরা অনেকদিন ধরেই দেশের প্রকৃতি আর বাস্তব জীবনকে ড্রোনের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। কখনো ভাবিনি এই কাজগুলো একদিন ডিজেআই গ্লোবাল-এর মতো একটি প্ল্যাটফর্মের নজরে আসবে। মহেশখালীতে এই ভিডিওটা আমরা খুব স্বাভাবিকভাবে, নিজের মতো করেই করেছি। আসলে আমরা যেটা ভালোবাসি, সেটাই করি, প্রকৃতির কাছে থাকা, সেই মুহূর্তগুলো ধরে রাখা। এই স্বীকৃতি আমাদের আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।”
এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি বাংলাদেশের তরুণ কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প, যা প্রমাণ করে, ভালোবাসা আর নিষ্ঠা দিয়ে কাজ করলে দেশ থেকেই বিশ্বমঞ্চে পৌঁছানো সম্ভব।
বর্তমানে নাজমুল হোসাইন (লাবু) দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে কাজ করছেন, বাংলাদেশের প্রকৃতিকে নতুনভাবে তুলে ধরছেন তার কনটেন্টে। একইভাবে মোঃ সুমন শেখ ও সারা বাংলাদেশ ভ্রমণ করে ড্রোনের মাধ্যমে প্রকৃতি ও জীবনের গল্প ধারণ করছেন। তবে দেশের ভেতরে বড় ধরনের স্বীকৃতি পাওয়ার আগেই তাদের এই কাজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন একটি স্বীকৃতি পেয়েছে, যা সত্যিই অভাবনীয় এবং গর্বের।